চতুর্থবার কন্যাসন্তান জন্মের পর ক্ষোভ! নবজাতক সন্তানকে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেলেন দম্পতি

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কন্যাসন্তানের জন্মের পর নবজাতককে ফেলে পালিয়ে গেছে এক দম্পতি। ওই দম্পতির আগে থেকেই তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আবারও কন্যাসন্তান হলে স্বামী তালাক দেবে বলে হুমকি দিয়েছিল বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে পাপিয়া খাতুন নামে ওই নারীকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানেই কন্যাসন্তান প্রসব করেন তিনি। এরপর তাকে গাইনি ওয়ার্ডে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর নবজাতককে আলমডাঙা উপজেলার ছত্রপাড়া গ্রামের বিলকিস বানু নামে এক মহিলার কাছে রেখে পালিয়ে যান ওই দম্পতি।

বিকেলে এ ঘটনা জানাজানি হলে হাসপাতালে আসেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা-তুজ-জোহরা, জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক সিদ্দিকা সোহেলী রশীদ এবং সদর থানার ওসি শেখ সেকেন্দার আলী।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আরএমও ওয়াহেদ মাহমুদ রবিন জানান, ওই দম্পতির আগে থেকেই তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আবারও কন্যাসন্তান হলে স্বামী তালাক দেবে বলে সবাইকে জানিয়েছিল পাপিয়া। তাই আবার কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ায় তাকে ফেলে পালিয়ে গিয়েছে ওই দম্পতি।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি শেখ সেকেন্দার আলী জানান, ওই দম্পতি হাসপাতালে যে নাম এবং ঠিকানা দিয়েছেন সেটি যাচাই করা হয়েছে। দেখা গেছে তারা ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এবং ছবি দেখে ওই মহিলা এবং তার আত্মীয়দের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা-তুজ-জোহরা জানান, নবজাতক কন্যাটি এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।