মুখোশ শিল্পী নেপালচন্দ্র সূত্রধরের মরণোত্তর পদ্মশ্রী পুরস্কার, খুশির হাওয়া গ্রামজুড়ে

ছৌ নাচের মুখোশ তৈরির জন্য বিখ্যাত পুরুলিয়া জেলার চড়িদা গ্রামের নেপালচন্দ্র সূত্রধরকে মরণোত্তর পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। ২০২৩ সালে নভেম্বর মাসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রখ্যাত মুখোশ শিল্পী।
আট বছর বয়সে মুখোশ তৈরির হাতেখড়ি নেপালচন্দ্র সূত্রধরের। পরিবারে তিন পুরুষ ধরে তাঁরা মুখোশ তৈরির কাজেই যুক্ত। প্রায় পাঁচ দশক ধরে ছৌ নাচের মুখোশ তৈরি করেছেন তিনি। তাঁর তৈরি মুখোশের চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য ও জীবন্ততা ছৌ নাচের নান্দনিকতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নেপালচন্দ্র সূত্রধর শুধু মুখোশ তৈরিই করেননি, সেই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বহু ওয়ার্কশপে যোগ দিয়ে মুখোশ গড়ার প্রশিক্ষণও দিয়ে গিয়েছেন। তাঁর হাত ধরে বহু শিল্পী মুখোশ তৈরির কৌশল রপ্ত করেছেন।
নেপালচন্দ্র সূত্রধরের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার ও গোটা চড়িদা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। কিন্তু মরণোত্তর পদ্মশ্রী পুরস্কার তাঁদের নতুন করে উৎসাহিত করেছে। তাঁর নাতি জয়ন্ত সূত্রধর বলেন, “দাদুর এই সম্মান পুরুলিয়ার মুখোশ শিল্পের জন্য গর্বের।”
পুরুলিয়ায় প্রতি বছরই প্রচুর মানুষ বেড়াতে যান। তাঁদের মধ্যে অনেকেই ঘুরতে যান চড়িদা গ্রামে। সেখান থেকে মুখোশও সংগ্রহ করেন তাঁরা। এছাড়া ছৌ নাচের শিল্পীরাও নিজেদের প্রয়োজনে এই গ্রামের মুখোশ শিল্পীদেরই দ্বারস্থ হন। তাই এই গ্রামের নাম ইতিমধ্যেই মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। আর এবার সেই গ্রামেরই শিল্পীর মুকুটে মরণোত্তর পদ্ম পুরস্কারের পালক। সেক্ষেত্রে এবার এই গ্রামের নাম তথা মুখোশের খ্যাতি আরও ছড়িয়ে পড়বে বলেই মনে করছেন শিল্পীরা।
নেপালচন্দ্র সূত্রধর ছিলেন একজন অসাধারণ মুখোশ শিল্পী। তাঁর তৈরি মুখোশ ছৌ নাচের জীবন্ততা ও সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মরণোত্তর পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় তাঁর প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। তাঁর কাজ ও জীবনের আদর্শ অনুসরণ করে আগামী প্রজন্মের মুখোশ শিল্পীরা আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়তে পারবেন বলে আমি আশা করি।