ভাগ্য ফিরল বৃদ্ধ টোটো চালকের, লটারির টিকিট কেটে পেলেন এক কোটি টাকা

বনগাঁর চাঁপাবেড়িয়ার বাসিন্দা বিমল বিশ্বাসের রাতারাতি ভাগ্য বদল ঘটেছে। লটারি টিকিট কেটে এক কোটি টাকা জিতেছেন তিনি। দীর্ঘদিন দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন কাটিয়েছেন এই বৃদ্ধ। কিন্তু, শেষ বয়সে এসে কোটিপতি হয়ে উঠলেন।
দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাসের ড্রাইভারি করে জীবন কাটিয়েছেন। বড় করেছেন ছেলে ও মেয়েকে। তবে বয়স ও চোখের সমস্যার জন্য ড্রাইভারি ছেড়ে দিয়ে টোটো চালিয়ে কোনওমতে সংসারের হাল ধরে রেখেছিলেন বৃদ্ধ বিমলবাবু।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি লটারি টিকিট কেটে আসছেন। দারিদ্রতা দূর করার আশায় এই প্রবীণ। সোমবার সন্ধ্যায় কাটা টিকিটে এক কোটি টাকা পেয়েছেন তিনি।
আপাতত বাড়ি করে এবং ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যতের জন্য কিছু টাকা রেখে যেতে চান প্রবীণ বিমল বিশ্বাস। পাশাপাশি অভাবের জন্য চোখের অপারেশন করাতে পারেননি তিনি। এবার সেই অপারেশনটাও করাবেন।
কোটি টাকার লটারি পাওয়ার পর বিমল বিশ্বাস বলেন, ‘শোনার পর গোটা পরিবার উল্লসিত। আমি আগে ড্রাইভারি করতাম। এখন বয়সের জন্য লাইসেন্স রিনিউ হয়নি। তাই টোটো চালাতাম। ছেলে শিক্ষিত। কিন্তু, আমাদের পয়সা নেই তাই ওরা চাকরি পাইনি। যাতে ছেলেটার জন্য কিছু রেখে যেতে পারি সেই জন্য লটারি কাটতাম। আমার ইচ্ছে ছিল একটা ঘর করব, আর ছেলেটার জন্য কিছু সম্পত্তি করব। এখন সেটা পূরণ হবে বলে মনে হচ্ছে।’
তাঁর ছেলে সুজয় বিশ্বাস পেশায় কম্পিউটার সারান। তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। বাবা অনেক দিন থেকে টিকিট কেটে আসছে। এই নিয়ে বাড়িতে অল্প অশান্তিও হত। মা এই নিয়ে বাবাকে সতর্ক করেছিলেন। এখন এটাই বলব যে বাবার মনের ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। তিনি একটা বড় পুরস্কার পেয়েছেন। প্রথমত বাবার চোখ অপারেশনটা করাতে হবে। এরপর আমাদের স্বপ্ন ছিল বাড়ি করার। তা করার পর ধীরে ধীরে অন্য কাজ করব।’
বিমল বিশ্বাসের ভাগ্য বদলের ঘটনায় তার পরিবার ও এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে। এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে যে, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে যেকোনো কিছুই সম্ভব।