রামায়ণের সাথে গভীর সম্পর্ক, ভারতের পাশাপাশি আরেকটি অযোধ্যা রয়েছে থাইল্যান্ডে

ভারতের অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রামায়ণের প্রতি বিশ্বব্যাপী উৎসাহের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এই উৎসাহের রেশ থাইল্যান্ডেও ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ, থাইল্যান্ডের একটি শহরের নামও অযোধ্যা। এই অযোধ্যায়ও রামায়ণের প্রভাব সুস্পষ্ট।

থাইল্যান্ডের অযোধ্যা শহরের নাম আয়ুথায়া। ১৩৫০ সালে এই শহরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শহরটিকে থাই ভাষায় রূপান্তর করে আয়ুথায়া করা হয়েছিল।

আয়ুথায়ার প্রথম রাজার নাম ছিল রামাথিবোদি। এই নামের অর্থ হচ্ছে ভগবান রাম। এর পর থেকে হিন্দু বৈদিক রীতিনীতি মেনেই আয়ুথায়ায় আচার-অনুষ্ঠান তৈরি হয়। সেই সঙ্গে রামের নীতি মেনে রাজ্য চালনা করা হতো।

আয়ুথায়ার রামায়ণে থসকান নামে একটি চরিত্র রয়েছে। এই চরিত্রটি রাবনের চরিত্রের সঙ্গে মিলে যায়। থসকান শব্দের অর্থ হচ্ছে দশ। ফ্রা রাম নামেও একটি চরিত্র রয়েছে আয়ুথায়ার রামায়নে।

আঠারোশ শতাব্দীতে আয়ুথায়া বিশ্বের বৃহত্তম শহরগুলির মধ্যে অন্যতম বলে স্বীকৃতি পেয়েছিল। অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়। কিন্তু সতেরোশ শতাব্দীর মাঝামাঝি বিদেশি সেনার আক্রমণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। আজও বিশাল ধ্বংসজজ্ঞের নিদর্শন বহন করে আছে আয়ুথায়া। তবে, বিদেশি সেনার হামলার হাত থেকে আশ্চর্যজনকভাবে রক্ষা পেয়েছিল পাথরের মন্দির এবং বৌদ্ধমূর্তিগুলি। মন্দির এবং মূ্র্তিগুলির নকশায় রয়েছে হিন্দু সংস্কৃতির ছাপ।

আয়ুথায়ার রামায়ণ বা রামাকিয়েনের অনেক সংস্করণ তৈরি হয়েছে। আজও থাইল্যান্ডে রামাকিয়েন মঞ্চস্থ হয়। থাইল্যান্ড এবং ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রায় ৭৭ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বন্ধন শতাব্দী প্রাচীন।

থাইল্যান্ডের অযোধ্যা শহরটি রামায়ণের আঁচ ছড়িয়ে থাকা আরেকটি জনপদ। এই শহরটি রামায়ণের প্রতি বিশ্বব্যাপী উৎসাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।