ডাক্তারিতে ভর্তি নিয়েও এবার সিবিআই তদন্ত? উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়

রাজ্যে শিক্ষক, শিক্ষকর্মী, পুরসভা এবং রেশন দুর্নীতির তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ED-র হাতে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের অপর মন্ত্রী জ্য়োতিপ্রিয় মল্লিক।
কিন্তু, এবার ডাক্তারির ক্ষেত্রেও অ্যাডমিশনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এই মামলার জল গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। অভিযোগ, ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র বা কাস্ট সার্টিফিকেট দেখিয়ে ডাক্তারিতে ভর্তি নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা ইতশা সোরেন অভিযোগ করেছেন, তিনি ২০২৩ সালে নিট পাশ করেছিলেন। কিন্তু, সরকারি কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ তিনি পাননি। তাঁর আরও অভিযোগ, জাল কাস্ট সার্টিফিকেট দেখিয়ে ২৭ জন আসন দখল করেছিল। আর এর কারণেই তিনি বঞ্চিত হয়েছিলেন।
ইতশার অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলাটি ওঠে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই মামলায় যুক্ত সকলের বক্তব্য বৃহস্পতিবার জানতে চেয়েছেন।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রশ্নের ভিত্তিতে সরকার হলফনামাও জমা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই ইতশাকে ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজে যাতে ভর্তি করা হয় সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের তরফে।
এই নির্দেশের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এবার মেডিক্যালে ভর্তির বিষয়ে বড় নির্দেশ দিতে পারে আদালত?
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে একাধিক উল্লেখযোগ্য নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাঁকে বেতন বাবদ প্রাপ্ত সমস্ত টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
এই নির্দেশের পর রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তে অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি বহাল রাখা হয়।
এবার ডাক্তারিতে জালিয়াতির অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর দেখার বিষয়, এই বিষয়ে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়।
এই ঘটনায় রাজ্যে আবারও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা কী ছিল, তাও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন অনেকে।