৬২ জন প্রবীণ নাগরিককে দেওয়া হল স্কুলে চাকরির নিয়োগপত্র, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ঘিরে তোলপাড়

হুগলি জেলায় অবসরের বয়স পেরিয়ে যাওয়া ৬২ জনকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে চারজনের মৃত্যুও হয়েছে। এই ঘটনায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই ও ইডি তদন্ত চলছে রাজ্যে। এমন সময় এই নিয়োগপত্র ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

নিয়োগপত্র পেয়েছেন এমন একজন হলেন পান্ডুয়ার বাসিন্দা দীনবন্ধু ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “সে সময় বামফ্রন্ট সরকার ছিল, আমরা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ছিলাম। আমারা চাকরি পাইনি। পরে প্যানেল বাতিল হয়ে যায়। এখন শিক্ষা সংসদ থেকে নিয়োগ পত্র পেয়েছি। কী করে হল জানি না।”

আরেকজন প্রার্থী অচিন্ত আদক বলেন, “আমরা ১৯৮৩ সালে মামলা করেছিলাম। এখন চাকরি দিচ্ছে, কী করে দিল জানি না। ষাট বছরে তো অবসর হয়, আর এই বয়সে কী করে চাকরি করব?”

এবিপিটিএ-র কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহন পণ্ডিত বলেন, “সারা ভারত বর্ষে এই ধরনের ঘটনা হয়নি। অবসরের বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পর চাকরির নিয়োগ পত্র দেওয়া হচ্ছে। সরকারি চাকরিতে ষাট বছর বয়স হল অবসরের। সেখানে ৬৫-৭০ বছর বয়সীদের চাকরি দেওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন, “আমরা তদন্ত চাই, বিষয়টার সত্য উদঘাটিত হোক।”

বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য স্বপন পাল বলেন, “মারা গিয়েছেন এমন লোককেও নিয়োগ পত্র দেওয়া হয়েছে। বাকিদের কারোরই চাকরির বয়স নেই। এমন একটা অকর্মণ্য সরকার চলছে যদের কাছে কোনও খবরই নেই কে মারা গেল কে জীবিত আছে। হাইকোর্টে শিক্ষা সংসদের আইনজীবী ছিলেন সেখানে কেন আপডেটেড তথ্য দেওয়া হয়নি? জনগনের টাকা এই ভাবে অপচয় হচ্ছে।”

হুগলি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারপারসন শিল্পা নন্দী অবশ্য এখনই কিছু বলতে চাননি। তিনি যা বলার পরে বলবেন বলে জানিয়েছেন। হুগলি জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, “আদালতের যে রায় সেটাকে কার্যকর করা দায়িত্ব। সেই রায়কে কার্যকর করেছে দফতর।”

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেয় প্রার্থীদের নিয়োগ পত্র দেওয়ার। সেই মত ৬৬ জনের নিয়োগ পত্র ছাড়া হয়, যাঁরা ২০১৪ সালের ৮ ই আগস্ট থেকে এফেক্ট পাবেন। আদালতের নির্দেশ মতোই এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এই নিয়োগপত্রের বিতর্কের মধ্যে দিয়ে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম ও দুর্নীতির আরেকটি চিত্র সামনে এসেছে।