দামোদরের চরে পিকনিকের নামে দূষণের ছড়াছড়ি, বাড়ছে পরিবেশপ্রেমীদের উদ্বেগ

ভোরের কুয়াশার চাদর সরিয়ে বছরের শুরুতেই পিকনিকের মৌসুম শুরু হয়েছে। বছরের শুরুতে এমন আবহাওয়াই পিকনিকের আদর্শ সময়। পশ্চিম বর্ধমানের দামোদরের চরেও এই সময়ে পিকনিক করতে আসেন হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু পিকনিকের নামে সেখানে ছড়িয়ে পড়ছে ব্যাপক দূষণ।

দামোদরের পাড়ের ফাঁকা জায়গায় চলছে আগুন জ্বালিয়ে পিকনিকের রান্না। রানিগঞ্জের বল্লভপুর, সাহেবগঞ্জ, নারানকুড়ি, এগারা এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, খাওয়া-দাওয়ার পর থার্মোকলের থালা-গ্লাস, প্লাস্টিকের প্যাকেট, সব্জির খোসা নদীর চরে ছড়িয়ে চলি গিয়েছে পিকনিক পার্টি। মরার উপর খাড়ার ঘার মতো এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজে সাউন্ড বক্সের দাপট।

এই শীতের মরশুমে দামোদরের জল শুকিয়ে সরে গিয়েছে দূরে। শব্দের দাপটে এখন মাঝনদীতে আর আগের মতো পরিযায়ী পাখিও আসছে না। নদীর জলে ভাসছে প্লাস্টিক, থার্মোকলের থালা-গ্লাস। এতেই অশনি সঙ্কেত দেখছেন পরিবেশপ্রেমীরা।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের জেলা সম্পাদক কল্লোল ঘোষ বলেন, ‘দূষণ না করেই পিকনিক হোক। প্রশাসন উদ্যোগ নিলেই তা সম্ভব। প্লাস্টিক, থার্মোকল নদীর জলে পড়লে জলজ ইকো-সিস্টেম ধ্বংস হবে।’

নদী বাঁচানোর পরিকল্পনা কারা করবে? স্থানীয় প্রশাসন নির্বিকার। নদীর চর সাফাইয়ের নেই কোনও ব্যবস্থা। পিকনিক করতে আসা এক শিক্ষক জানালেন, স্থানীয় প্রশাসন নির্দিষ্ট ডাস্টবিন তৈরি করেনি। নেই কোনও শৌচালয়ও।

দূষণের জেরে বিপন্ন হচ্ছে দামোদর ও সংলগ্ন চর এলাকা। পরিবেশপ্রেমীরা দাবি করছেন, প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে দামোদরের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।