OMG! পিকনিকে মাংস নিয়ে বন্ধুদের বচসা, তারপর…যা ঘটলো ?

শীতের রাতে পিকনিকের আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল পুরশুড়ার নিমডিঙির একদল যুবক। কিন্তু রাতে খেতে বসে কার পাতে কতটা মাংস পড়েছে সেই নিয়ে ঝগড়ায় একজনকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মৃতের নাম সঞ্জয় ভক্ত (৪৪)। তিনি নিমডিঙিতেই থাকতেন। অভিযুক্ত বাবুরাম সর্দার। তিনি বাঁকুড়ার বাসিন্দা। পুরশুড়ার নিমডিঙিতে কাজের সূত্রে আসতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে পুরশুড়ার নিমডিঙিতে এলাকার কিছু যুবক পিকনিকের প্ল্যান করে। সন্ধের পর থেকে রান্নাবান্না শুরু হয়। দেদার হাসি-মজা চলছিল। সঙ্গে ছিল মদ। রাতের দিকে খেতে বসে গন্ডগোলের সূত্রপাত হয়।

ঝগড়াটা লাগে মূলত সঞ্জয়ের সঙ্গে বাবুরামের। কার পাতে বেশি মাংস পড়েছে সেই নিয়ে ঝগড়া। ঝগড়া এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে দু’জনেই খাওয়া ছেড়ে উঠে পড়েন। অভিযোগ, বাবুরাম প্রথমে সঞ্জয়কে মারধর শুরু করে।

পাল্টা প্রতিরোধ করেন সঞ্জয়। এই হাতাহাতির মধ্যেই একটি লাঠি নিয়ে আচমকা সঞ্জয়কে বেধড়ক মারতে শুরু করে বাবুরাম। মারের চোটে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সঞ্জয়। আর দেরি করেনি বাবুরাম। সে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালায়। রক্তাক্ত সঞ্জয়কে ফেলে রেখে পালান বাকিরাও।

সকালে এলাকার বাসিন্দারা সঞ্জয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁরাই পুলিশকে খবর দেন। তড়িঘড়ি পুলিশ এসে সঞ্জয়ের দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

তদন্তে নেমে পুলিশ বাবুরামের নাম পায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, পুলিশের জেরায় বাবুরাম স্বীকার করেছে, সেই সঞ্জয়কে রাগের মাথায় পিটিয়ে খুন করেছে।

সঞ্জয়ের এক আত্মীয় উজ্জ্বল রায় বলেন, ‘এ ভাবে সঞ্জয় খুন হয়ে যাবে ভাবতে পারিনি। ওকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। বাবুরামের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা। বাকিদেরও যাতে গ্রেপ্তার করা হয় সেই আবেদন পুলিশের কাছে করেছি।’