চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা, পুলিশের জালে কংগ্রেস নেতা

চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে রাজ্য যুব কংগ্রেস সহ সভাপতি বাবুল শেখকে গ্রেফতার করল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা। মালদা জেলার ইংরেজবাজার থানা এলাকার যদুপুরের বাসিন্দা বাবুল শেখের বিরুদ্ধে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাবুল শেখ নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারণার চক্র চালাতেন। তিনি বিভিন্ন চাকরি প্রার্থীদের কাছে লাখ লাখ টাকা নিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলতেন। কিন্তু, প্রতারিত চাকরি প্রার্থীরা চাকরিতে যোগদান করতে গেলে তাঁদের ঠকাতেন বাবুল।
মালদা জেলায় দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারণা চালানোর পর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরপর তিনি কলকাতায় চলে আসেন। কলকাতায় এসে ফের তিনি যুব কংগ্রেসের সহ সভাপতি পদ ফিরে পান। রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ফের তিনি প্রতারণা শুরু করেন বলে অভিযোগ।
কলকাতায় বিধাননগর সাইবার ক্রাইমের থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল। এরপরেই তদন্ত চালিয়ে বিধাননগর সাইবার ক্রাইমের থানা তাঁকে গ্রেফতার করেছে। তাঁর সঙ্গে এই প্রতারণা চক্রে আর কেউ যুক্ত আছে কিনা দেখা হচ্ছে।
মালদা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গোপাল সরকার বলেন, ‘দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয় বলে বছর চারেক আগেই এঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই, পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।’
রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। দীর্ঘদিন ধরেই চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার হদিশ মিলছে রাজ্যে। ইতিমধ্যে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শিক্ষা দফতরের একাধিক পদস্থ ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জেলে রয়েছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক নেতা এই দুর্নীতি সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য উঠে আসছে। এর মধ্যেই মালদা জেলার এই যুব কংগ্রেস নেতার এহেন কাণ্ডে অস্বস্তিতে পড়তে হল এবার কংগ্রেসকেও।
কী ভাবে এই প্রতারণা চলত?
পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, বাবুল শেখ বিভিন্ন সরকারি চাকরির বিজ্ঞাপন সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়ে চাকরি প্রার্থীদের আকৃষ্ট করতেন। তিনি চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলতেন। এর জন্য তিনি চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিতেন। কিন্তু, প্রতারিত চাকরি প্রার্থীরা চাকরিতে যোগদান করতে গেলে তাঁদের ঠকাতেন বাবুল।
বাবুল শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রার্থীদের ভুয়া মার্কশিটও সরবরাহ করতেন। তিনি নিজেকে বিভিন্ন সরকারি দফতরের পদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিতেন।
পুলিশের তদন্তে এই প্রতারণা চক্রের আরও সদস্যদের খোঁজ চলছে।