মালদ্বীপ বেশি চিন ঘনিষ্ঠ, মেনেনিলেন বিরোধী নেতাও

মালদ্বীপের বিরোধী নেতা ফায়াজ় ইসমাইল স্বীকার করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লক্ষদ্বীপ সফরের ফটোশ্যুট নিয়ে মালদ্বীপের নেতা-মন্ত্রীদের বিতর্কিত মন্তব্যে দু’দেশের সম্পর্ক জটিল আকার ধারণ করেছে।
ইসমাইলের মতে, মোদী সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য নেতা-মন্ত্রীদের সম্বন্ধে আরও কড়া বিবৃতি দেওয়া উচিত ছিল মালদ্বীপ প্রশাসনের। তিনি বলেন, “এটা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, যাঁদের দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সরকারি পদ দেওয়া হয়েছে…”
ইসমাইলের মতে, বর্তমান মালদ্বীপ প্রশাসন যে চিনের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট, সেকথাও অস্বীকারের কোনও জায়গা নেই। তিনি বলেন, “দেশে রাজনৈতিক পালাবদল হলে সহযোগী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের রসায়নও কিছুটা বদলায়, সেটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে তেমনই আমরা ভারতের থেকে চিনের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখতে পাচ্ছি।”
ইসমাইলের মতে, মালদ্বীপ বরাবরই ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ নীতি নিয়ে চলে, তবে বর্তমান সরকারের বিদেশি নীতি কিছুটা ভিন্ন। তিনি বলেন, “ভারত এবং মালদ্বীপের সম্পর্ক দীর্ঘসময় ধরে, অভিজ্ঞ নেতাদের দ্বারা ঋদ্ধ হয়েছে। মালদ্বীপে পর্যটকদের নিরিখেও ভারতীয়দের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তবে শুধু অর্থনৈতিক বা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নয়, সামাজিক উন্নতি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে মালদ্বীপ ও ভারতের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। মালদ্বীপের বিভিন্ন বিপর্যয়ের সময়ে ভারতই পাশে দাঁড়িয়েছে।”
এদিকে, মালদ্বীপের ট্যুরিজ়ম বডি ভারতের ট্র্যাভেল বডিদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে- তারা যেন মালদ্বীপের জন্য পর্যটকদের ফ্লাইট বুকিং রি-ওপেন করে।
মালদ্বীপের বর্তমান পরিস্থিতি
মালদ্বীপের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ অস্থির। ২০২৩ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন মহম্মদ মুইজ্জু। মুইজ্জু সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহের বিরোধী জোটের নেতৃত্বে নির্বাচনে জয়ী হন।
মুইজ্জু’র সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের সাথে মালদ্বীপের সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। মুইজ্জু সরকারের চিনের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব ভারতকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
মোদীর লক্ষদ্বীপ সফরের ফটোশ্যুট নিয়ে মালদ্বীপের নেতা-মন্ত্রীদের বিতর্কিত মন্তব্যে এই সম্পর্কের অবনতি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
মালদ্বীপের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত ও মালদ্বীপের সম্পর্কের উন্নতির সম্ভাবনা কম। মুইজ্জু সরকারের চিনের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব ভারতকে মালদ্বীপের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করছে।
তবে, মালদ্বীপের জনগণের মধ্যে ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। এই মনোভাব ভবিষ্যতে ভারত ও মালদ্বীপের সম্পর্কের উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি করে দিতে পারে।