৪৪০ টাকার ফুলদানি কিনে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকায় বিক্রি করলেন তরুণী, জেনেনিন কিভাবে?

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় একটি দোকানে বিভিন্ন পণ্য দেখছিলেন জেসিকা ভিনসেন্ট নামের এক নারী। হঠাৎ একটি কাচের ফুলদানিতে তার চোখ আটকে যায়। ফুলদানিটি দেখতে বোতলের মতো। নীলচে-সবুজ ও লালচে–বেগুনি রঙের রিবন দিয়ে ফুলদানি প্যাঁচানো ছিল। দেখে মনে হচ্ছিল যেন কোনো শিল্পকর্ম।
ফুলদানিটি জেসিকার বেশ মনে ধরে। অঙ্গরাজ্যের রাজধানী রিচমন্ডের বাইরে গুডউইল শোরুম থেকে তিনি ঘর সাজানোর জন্য প্রায় চার ডলার (৪৪০ টাকা) দিয়ে ফুলদানিটি কিনে নেন।

ফুলদানির সবকিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে গিয়ে এর তলায় লেখা ‘মুরানো’ ও ‘ইতালিয়া’ শব্দ দুটি জেসিকার নজরে আসে। এরপরই তিনি এ নিয়ে কিছু পড়াশোনা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ফুলদানিটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। ১৩ ডিসেম্বর তিনি রাইট অকশন হাউসের মাধ্যমে এটি নিলামে বিক্রি করে পান ১ লাখ ৭ হাজার ১০০ ডলার (১ কোটি ১৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা)। যিনি কিনেছেন তিনি ইউরোপের নাগরিক।

জেসিকা বলেন, ‘আমার সব সময়ই মনে হয়েছে, আমার দেখার চোখ আছে। আমি অবাক হয়েছি, আমার আগে এই ফুলদানি কারও নজরে পড়ল না।’

জেসিকা গত জুনে ফুলদানিটি কেনার পর ফেসবুকে গ্লাস আর্টের গ্রুপে এটির ছবি পোস্ট করেন।

গুডউইল অব সেন্ট্রাল অ্যান্ড কোস্টাল ভার্জিনিয়ার মুখপাত্র লরা ফাইসন বলেন, প্রতিটি স্টোরে গড়ে প্রতিদিন দুই হাজার নতুন পণ্য আসে। এই ফুলদানিটি সম্ভবত সম্প্রতি এসেছিল।

জেসিকা গত জুনে ফুলদানিটি কেনার পর ফেসবুকে গ্লাস আর্টের গ্রুপে এটির ছবি পোস্ট করেন।

ফুলদানিটি ভেনিসের শিল্পকর্ম। দ্বীপটি ১৩ শতাব্দী থেকে এই শিল্পের জন্য বিখ্যাত। ফুলদানিটি বিখ্যাত কাচের কোম্পানি ভেনিনির তৈরি। নকশা করেছিলেন ইতালীয় স্থপতি কার্লো স্কারপা। তিনি ১৯৭৮ সালে মারা যান।

ফেসবুকে জেসিকার পোস্টের নিচে একজন মন্তব্য করেন, ‘এগুলো খুবই বিরল। এ ধরনের জিনিস যিনি সংগ্রহ করেন, তিনি অবশ্যই এটি পছন্দ করবেন। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষেরই এসব কেনার ক্ষমতা নেই।’

এরপর জেসিকা শিকাগোর রাইট অকশন হাউসের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড রাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাকে ই–মেইল করেন। রাইট বলেন, ‘আমি ই–মেইলটা দেখেই বুঝতে পেরেছি, এটি কী ও কতটা বিরল।’

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ইতালীয় গ্লাস নকশাকারদের মধ্যে স্কারপা ছিলেন সবচেয়ে ভালো নকশাকার। তিনি ১৯৪২ সালে একটি সিরিজ তৈরি করেছিলেন, এই ফুলদানিটি সেটির একটি।

সূত্র: ইউএসএ টুডে