শুধু চাল নয়, রেশনের আটাও হয়েছে হাপিশ! নয়ছয় হয়েছে ৫০৪ কোটি টাকা

পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য দপ্তরে চলমান রেশন দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) প্রথম চার্জশিট দাখিল করেছে। চার্জশিটে বাকিবুর রহমান এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে আটা চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, ২০১১ সাল থেকে বাকিবুর রহমানের এনপিজি রাইস মিলে গম থেকে আটা তৈরির নামে প্রায় ৫০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বাকিবুর গম থেকে আটা তৈরির পরিমাণ কমিয়ে দেখিয়েছিলেন এবং বাকি আটা বাজারে বিক্রি করেছিলেন। এই আটা চুরির কাজে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সহায়তা ছিল বলে ইডির দাবি।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি বাকিবুরের সঙ্গে যোগসাজশে রেশন দুর্নীতির কারবার চালিয়েছিলেন বলে ইডির অভিযোগ।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, বাকিবুর রহমানের এনপিজি রাইস মিল থেকে রেশন মালিক এবং ডিস্ট্রিবিউটারদের কাছে ৮৮ লক্ষ ২৭ হাজার ২৩০ কুইন্টাল আটা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাকিবুর রহমান এই পরিমাণের ২৫.৫৫ শতাংশ আটা বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। এই আটার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫০৪ কোটি টাকা।

ইডির দাবি, বাকিবুর রহমান এই আটা চুরির টাকা দিয়ে নামে বেনামে সম্পত্তি করেছেন। তিনি একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি, জমি এবং বাড়ি কিনেছিলেন।

চার্জশিট দাখিলের পর ইডির আধিকারিকরা বাকিবুর রহমানের বাড়ি এবং অফিস তল্লাশি চালান। এই তল্লাশিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।

রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডির তদন্ত এখনও চলছে। ইডির দাবি, এই মামলায় আরও অনেকেই জড়িত থাকতে পারে।

এই চার্জশিট নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলি এই চার্জশিটকে কেন্দ্র করে সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগছে।

বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “রেশন দুর্নীতি একটি ভয়াবহ ঘটনা। এই দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।”

তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী বলেছেন, “এই চার্জশিটটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইডি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই চার্জশিট দিয়েছে।”