৬০০, ৮০০ গ্রামের একরত্তির নয়া জীবন দিলো চিকিৎসকরা, তিন মাসের প্রয়াসে মিললো সাফল্য

বেহালার মৌমিতা মণ্ডল এবং উত্তর কলকাতার নীহারিকা জয়সওয়ালের গর্ভাবস্থার ২৬ এবং ২৮ সপ্তাহে যথাক্রমে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তাদের শিশুদের জন্ম হয়। দুটি শিশুর ওজন ছিল যথাক্রমে মাত্র ৮০৪ গ্রাম এবং ৬৩০ গ্রাম। এই দুই শিশুর জন্মের সময় তাদের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অপরিণত ছিল। শ্বাসপ্রশ্বাস কিংবা খাওয়াদাওয়া-সবই চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয় চিকিৎসকদের।
মেডিকা সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতালের নিউক্লিয়ার ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিট (NICU) এর চিকিৎসক এবং নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে তিন মাসের চেষ্টায় দুই শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পায়। ডিসচার্জের সময়ে এক জনের ওজন ৮০৪ গ্রাম থেকে বেড়ে দেড় কেজির কিছু বেশি আর অন্য জনের ৬৩০ গ্রাম থেকে বেড়ে দু’কেজি ছুঁইছুঁই।
এর আগেও এসএসকেএমের চিকিৎসকেরা ৫৫০ গ্রাম, এমনকী ৪৫০ গ্রাম ওজনের নবজাতককেও ছ’মাসের চেষ্টায় সুস্থ-সবল করে তুলতে পেরেছেন। গর্ভাবস্থার ২৩ সপ্তাহে জন্মানো ৪৫০ গ্রামের সদ্যোজাতকে বাঁচানোটাই এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে সেরা নজির।
মেডিকার শিশু ও সদ্যোজাত রোগ বিভাগের প্রধান নিকোলা জুডিথ ফ্লিন বলেন, “দীর্ঘ দিন ধরে মেকানিকাল ভেন্টিলেশনের সঙ্গে খুলির মধ্যে রক্তপাতের জেরে ওই দুই সদ্যোজাতকে বাঁচানোটা গোড়ায় কঠিন ও জটিল হয়ে উঠেছিল। একটু স্থিতিশীল হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে পুষ্টির বিষয়টি। তাই আমাদের লক্ষ্য ছিল স্তন্যপান করানো, ক্যাঙ্গারু মাদার-কেয়ারের প্রয়োগ, ভালোবাসায় মায়ের বুকে আগলে রাখার মতো অতি-জরুরি বিষয়গুলি। তাতেই এসেছে সাফল্য।”
মেডিকার নিউক্লিয়ার ইন্টেন্সিভ কেয়ার ইউনিটের অসাধারণ সাফল্যটি নতুন করে প্রমাণ করে যে, অকাল প্রসবের পরও শিশুদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব। চিকিৎসক এবং নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রম, মায়ের ভালোবাসা এবং সঠিক যত্নের মাধ্যমে অকাল প্রসবের শিশুদেরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।