৪০ টাকা কেজি দরেই মিলবে পেঁয়াজ? দাম কমানোর চেষ্টায় পদক্ষেপ সরকারের

আগামী জানুয়ারির মধ্যে প্রতি কিলোগ্রাম পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকার নিচে নিয়ে আনার আশা করছে ভারত সরকার। দেশটির ক্রেতা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব রোহিত কুমার সিং জানিয়েছেন, ওই লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগে তারা কোনোভাবেই পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৬০ টাকার ওপরে উঠতে দেবেন না।

বার্তা সংস্থা পিটিআই’কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে রোহিত কুমার জানান, কেউ কেউ বলছেন, পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকাতে পৌঁছে যেতে পারে। তবে আমরা বলছি, দাম কিছুতেই কেজিপ্রতি ৬০ টাকার ওপরে উঠতে দেবো না।

রপ্তানি বন্ধ করে দাম নিয়ন্ত্রণ
ভারতের বাজারে দাম নাগালের মধ্যে রাখতে গত সপ্তাহে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এর ফলে বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে।

কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রপ্তানি বন্ধ করার একটা কারণ ছিল খরিফ ফসল উঠতে বিলম্ব হওয়া। এছাড়া, তুরস্ক-মিশরের মতো অন্য বড় পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশগুলোও রপ্তানির ওপরে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানির বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষক বিক্ষোভ
হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করায় ভারতের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ উৎপাদক রাজ্য মহারাষ্ট্রে কৃষক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। গত মঙ্গলবারও রাজ্যের শিরডিতে কৃষকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। শনিবার থেকে পেঁয়াজের পাইকারি বাজারে কেনাবেচাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে সোমবার থেকে আবারও বেচাকেনা চালু হয়েছে।

নাসিকের পেঁয়াজ বাজারের ব্যাপারী হীরামণ পরদেশী বলেন, গত সপ্তাহের শুরুতে কুইন্টাল প্রতি (১০০ কেজি) চার হাজার টাকা দাম পাচ্ছিলেন কৃষকরা। রপ্তানি বন্ধের নির্দেশের পরে একদিনেই সেই দাম পড়ে গিয়ে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, দাম হঠাৎ এতটা কমে যাওয়ায় কৃষকরা আমাদের কাছে পেঁয়াজ বিক্রি করছিলেন না। কিন্তু সোমবার থেকে আবারও কেনাবেচা শুরু হওয়ায় দাম উঠেছে। এখন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা কুইন্টালপ্রতি দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।

পেঁয়াজ কিনছে সরকার
হীরামণ পরদেশী জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার থেকে সরকারি সংস্থা জাতীয় কৃষিপণ্য সমবায় বিপণন ফেডারেশন বা ন্যাফেড এবং জাতীয় ক্রেতা সমবায় ফেডারেশন বা এনসিসিএফ বাজার থেকে পেঁয়াজ কিনতে শুরু করেছে। সংস্থা দুটি কুইন্টালপ্রতি ২২শ থেকে আড়াই হাজার টাকা দর দিচ্ছে কৃষকদের।

কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এ বছর মোট ৫ দশমিক ১০ লাখ টন পেঁয়াজ কেনার লক্ষ্য নিয়েছিল তারা। পরে সেই লক্ষ্য আরও বাড়িয়ে সাত লাখ টন করা হয়েছে। বাড়তি যে দুই লাখ টন পেঁয়াজ কেনা হচ্ছে, তার মাধ্যমেই দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে সরকার।

মন্ত্রণালয় বলেছে, কোনো এলাকায় দাম বাড়ছে জানতে পারলেই সেখানকার বাজারে পেঁয়াজ ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকার যে পেঁয়াজ কিনে রেখেছে, তা নিয়মিতই বাজারে ছাড়া হচ্ছে। খোলা বাজারের পাশাপাশি ক্রেতাদের কাছেও সরাসরি পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে।

পেঁয়াজের রাজনীতি
শিল্প-বাণিজ্য মহল মনে করছে, আগামী বছর ভারতের লোকসভা নির্বাচন। তার আগে দেশটির বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে তা থেকে সরকারবিরোধী ক্ষোভ জন্মাতে পারে মানুষের মনে।

তাই একদিকে যেমন পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার নির্দেশ জারি হয়েছে, তেমনি বাড়তি পেঁয়াজ কিনে ধীরে ধীরে তা দেশের বাজারে ছাড়া হচ্ছে যাতে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে।

শিল্প-বাণিজ্য বিশ্লেষক প্রতিম রঞ্জন বসুর কথায়, পেঁয়াজ এমনই একটি ফসল, যা রাজনৈতিকভাবে খুবই সংবেদনশীল, বিশেষ করে উত্তর ভারতে। এর আগে পেঁয়াজের অতিরিক্ত দামের কারণে সরকার পড়ে যেতেও দেখা গেছে। তাই এটি খুবই স্বাভাবিক যে, নির্বাচনের আগে সরকার চেষ্টা করবে পেঁয়াজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা