বাংলাদেশের শিল্প-কারখানায় গ্যাসের চরম সংকট, অর্থনীতি বিপাকে

বাংলাদেশের শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৪২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৪৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে উৎপাদন কমছে, রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ছে।

গ্যাস সংকটের প্রধান কারণ হলো দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন কমে যাওয়া। এছাড়াও, আমদানি করা এলএনজির সরবরাহও কমেছে। এছাড়াও, কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন কম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটির মেরামতকাজ চলছে। এই কারণেও গ্যাস সরবরাহ কমছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসভিত্তিক ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারায় কারখানাগুলোকে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, “গ্যাসসংকটের কারণে প্রায় ২০টি কারখানায় উৎপাদন বেশিরভাগ সময়ে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। দৈনিক ১৫হাজার টন উৎপাদনক্ষম কারখানাগুলোতে এখন ১৫০০ টন উৎপাদন হয়।”

গ্যাস সংকটের কারণে রফতানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পোশাকশিল্পে উৎপাদন কমে যাওয়ায় রফতানি আয় হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়াও, সিরামিক শিল্প ও ইস্পাত শিল্পেও উৎপাদন কমে যাওয়ায় রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন কমে গেলে কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, “গ্যাসসংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা বেকার হয়ে যেতে পারেন।”