ঠিক যেন সিনেমার গল্প! হত্যা মামলায় হয় জেল, আইন পড়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করলো যুবক

ঠিক যেন সিনেমার গল্প! মাত্র ১৮ বছর বয়সে দুই কনস্টেবলকে হত্যা করে রাইফেল লুটের অভিযোগ যেতে হয়েছিল জেলে। তার যুক্তি ছিল অকাট্য। তবু তাতে কান দেয়নি পুলিশ, প্রমাণ হয়নি আদালতেও। কিন্তু যে অপরাধ তিনি করেননি, তার দায়ে কারাদণ্ডও মেনে নিতে পারেননি অমিত চৌধুরী।

তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এই অন্ধকার জীবন থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় ‘জ্ঞানের আলো’। আর সেই জ্ঞান হতে হবে আইনের। ফলে জেলের কুঠুরিতেই শুরু হলো সাধনা। অবশেষে ১২ বছর পর নিজেই সওয়াল করে আদায় করলেন মুক্তি।

সম্প্রতি এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশে। জানা যায়, রাজ্যের মিরাটের বাসিন্দা অমিত। ২০১১ সালে দুই কনস্টেবল কৃষ্ণপাল ও অমিত কুমার খুন হন। লুট হয় তাদের রাইফেল। অভিযোগের আঙুল ওঠে কুখ্যাত কাইল গ্যাংয়ের দিকে। আর মন্দ কপাল, অমিত চৌধুরীকেও সেই গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়। কারণ, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

অমিত ঘটনাস্থলের ধারেকাছেও ছিলেন না। বোনের সঙ্গে তিনি ছিলেন শামলি জেলায়। কিন্তু পুলিশ কোনো কথা কানে নেয়নি। আরও ১৬ জনের সঙ্গে তাকেও অপরাধী বলে চিহ্নিত করা হয়। ভারতীয় দণ্ডবিধি ও জাতীয় নিরাপত্তা আইনের মতো কঠোর ধারা দেওয়া হয় তাদের বিরুদ্ধে।

তার পরের দু’বছর কাটে দুঃস্বপ্নের মতো। মুজাফফরনগর জেলের চার দেওয়ালের মধ্যে অন্ধকারে ডুবে যেতে বসেছিল চাষির ছেলে অমিতের ভবিষ্যৎ। কিন্তু জেলর তাকে অন্য জায়গায় সরিয়ে দেন।

২০১৩ সালে জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেলেও মাথায় অপরাধের কলঙ্ক লেগেই ছিল। অমিতের স্বপ্ন ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন। কিন্তু তা সম্ভব নয় বুঝে পরিবার যেন মাথা উঁচু করে সমাজে চলতে পারে, সে জন্য বেছে নিলেন আইনের পথ। একে একে পাস করলেন বিএ, এলএলবি, এলএলএম। উত্তীর্ণ হলেন বার কাউন্সিলের পরীক্ষাতেও।

এরপর শুরু হলো নিজেকে কলঙ্কমুক্ত করার লড়াই। সাক্ষী পুলিশ কর্মকর্তা তাকে শনাক্তই করতে পারলেন না। হাজির করলেন আরও সাক্ষ্যপ্রমাণ। অতঃপর বিচারক নিঃসন্দেহ তাকে এবং আরও ১২ জনকে নির্দোষ রায় দিলেন।

ততদিনে আসল অপরাধীদের জন্যও ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। অভিযুক্ত সুমিত কাইল ২০১৩ সালে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। নীতুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার রুপি জরিমানা হয়েছে। রায় ঘোষণার আগেই ক্যানসারে মারা গেছেন ধর্মেন্দ্র।
ভুয়া অভিযোগে অমিতের সৈনিক হওয়ার স্বপ্ন ভেঙেছে ঠিকই, কিন্তু হাল ছাড়ছেন না তিনি। যুবকের কথায়, আমি ফৌজদারি আইনে পিএইচডি করতে চাই। আমি মনে করি, ঈশ্বর আমাকে অন্য হতভাগ্যদের জন্য লড়াই করার জন্য বেছে নিয়েছেন।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন