কন্যা সন্তান হওয়ার খুশিতে হাসপাতালে মিষ্টি বিলি, অ্যাম্বুল্যান্সে ফুল বেলুন! চর্চায় নাসিরুল

বীরভূমের লাভপুরে কন্যা সন্তানকে ‘লক্ষ্মী’ রূপে বরণ করে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের মিষ্টিমুখ করান নাসিরুল। সদ্যোজাত শিশুকন্যাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সকে ফুল ও বেলুন দিয়ে সাজিয়ে তোলেন তিনি।
নাসিরুল বলেন, ‘আমার মেয়ে তো লক্ষ্মী। আমরা স্বামী-স্ত্রী মিলে চেয়েছিলাম, ছেলে বা মেয়ে যাই হোক না কেন সে যেন সুস্থ এবং স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। সেই প্রত্যাশাই পূরণ হয়েছে। এখন এর থেকে বেশি আমার আর কী চাই! আর আমার মেয়ে হল স্বয়ং মা লক্ষ্মী। সেই কারমে মা লক্ষ্মীকে বরণ করার জন্য এই বন্দোবস্ত করেছি।’
নাসিরুল তাঁর কন্যা সন্তানকে লক্ষ্মী রূপে বরণ করেন। হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মীদের মিষ্টিমুখ করান। সদ্যোজাত শিশুকন্যাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য যে অ্যাম্বুল্যান্সটি বরাদ্দ ছিল, সেটিকে ফুল ও বেলুন দিয়ে সাজানো হয়।
নাসিরুলের এই উদ্যোগ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। লাভপুরের বাসিন্দা বিকাশ রায় বলেন, ‘নাসিরুল খুবই ভাল ছেলে। এলাকায় সবাই ওকে ভাল ছেলে বলেই চেনে। ওঁর স্ত্রী সন্তান সম্ভবা, সেটা জানতাম। কিন্তু কন্যা সন্তান হওয়ার পর তিনি তাঁকে এইভাবে ঘরে আনবেন, তা বুঝতে পারিনি। আমরা সত্যিই খুব অবাক হয়ে গিয়েছি। আজকালকার দিনে এমন দেখা যায় না।’
অ্যাম্বুল্যান্স চালক বিশ্বজিৎ বাউরি বলেন, ‘আমি এর আগে বহু মা ও সদ্যোজ্যাতকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। তবে এমন অভিজ্ঞতা আমার কাছে এই প্রথম। কন্যা সন্তান হওয়ার জন্য এর আগে আর কাউকে এত খুশি হতে দেখিনি।’
নাসিরুলের এই আচরণ সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। আজও অনেক সমাজে কন্যা সন্তানকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। কিন্তু নাসিরুল এই ধারণাকে পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর এই আচরণ সত্যিই প্রশংসনীয়।