তেজসে সওয়ার প্রধানমন্ত্রী, ককপিটে বাংলার প্রাক্তন ছাত্র দেবাঞ্জন

দেশে তৈরি চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তেজসের দু’আসন বিশিষ্ট নয়া সংস্করণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে আধঘণ্টা আকাশে উড়লেন আসানসোলের যুবক গ্রুপ ক্যাপ্টেন দেবাঞ্জন মণ্ডল।
বেঙ্গালুরুর হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (হ্যাল) তৈরি এই বিশেষ বিমান গত মাসেই বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। শনিবার হ্যালের বিমানঘাঁটি থেকেই তেজস মার্ক-১ ফাইটার জেটে ঘুরে এলেন প্রধানমন্ত্রী।
সেই অভিজ্ঞতার কথা এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন তিনি। ফাইটার পাইলটের পোশাক, ব্যালিস্টিক হেলমেট আর ইউভি গগ্লস পরা নানা ছবিও দিয়েছেন।
আর একটি পোস্টে রয়েছে একটি ভিডিয়ো। তাতে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধবিমানে ওঠার আগে পাইলট দেবাঞ্জন মণ্ডলের সঙ্গে আলাপ করছেন প্রধানমন্ত্রী। মিলিয়েছেন হাতও। ভিডিয়োর মাঝে মাঝ-আকাশের এক ফুটেজেও দু’জনকে দেখা গিয়েছে।
রবিবার ওই ভিডিয়োর কথাই উঠে এল দেবাঞ্জনের স্কুল সেন্ট প্যাট্রিকের প্রিন্সিপাল এন ডিসুজার মুখে। তিনি বলেন, “শনিবার গভীর রাতেই আমরা এই খবর পেয়েছি। আমরা দেবাঞ্জনের জন্য খুবই গর্বিত, আনন্দিত। স্কুলজীবনে বরাবরই মেধার পরিচয় দিয়েছিল ১৯৯২ ব্যাচের পড়ুয়া দেবাঞ্জন।”
তেজস-পাইলটের প্রসঙ্গে এয়ারফোর্সে থেকে অবসর নেওয়া রূপনারায়ণপুরের বাসিন্দা দুর্গাশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ভিডিয়োতে দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী ওঁর সঙ্গে হ্যান্ডশেক করছেন। প্রধানমন্ত্রী বিমানে ওঠার আগে তাঁর সঙ্গে সেখানে চিফ অফ এয়ার স্টাফ এয়ার চিফ মার্শাল ভিআর চৌধুরিও ছিলেন। তবে এত বড় ইভেন্টে আসানসোলের এক প্রাক্তন ছাত্রের উল্লেখযোগ্য ভূমিকায় আমরা সত্যিই গর্বিত।”
নতুন সংস্করণের তেজসে প্রধানমন্ত্রীর উড়ান
নতুন সংস্করণের তেজস যুদ্ধবিমানে প্রধানমন্ত্রীর উড়ানকে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, এই উড়ান প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতীক এবং এর ফলে ভারতীয় বায়ুসেনার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে।
উড়ানের বিস্তারিত
প্রধানমন্ত্রী শনিবার বেলা ১১টা নাগাদ হ্যালের বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান বায়ুসেনার চিফ অফ এয়ার স্টাফ এয়ার চিফ মার্শাল ভিআর চৌধুরি। এরপর প্রধানমন্ত্রী তেজস যুদ্ধবিমানে ওঠেন। দেবাঞ্জন মণ্ডল বিমানটি চালান।
প্রধানমন্ত্রী প্রায় আধঘণ্টা আকাশে উড়েন। এর মধ্যে তিনি যুদ্ধবিমানের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি যুদ্ধবিমানের অস্ত্র ও সরঞ্জামও পরিদর্শন করেন।
উড়ানের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তেজস যুদ্ধবিমান ভারতের প্রতিরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই বিমানের ফলে ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে।”
প্রধানমন্ত্রীর উড়ানের প্রভাব
প্রধানমন্ত্রীর উড়ানের ফলে ভারতীয় বায়ুসেনার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর আন্তর্জাতিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।