এক্সকারসনে গিয়ে বাঁধলো বিপত্তি, মিলল আশুতোষ কলেজের পড়ুয়ার নিথর দেহ

আশুতোষ কলেজের তৃতীয় সেমিস্টারের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরের পড়ুয়া তারাশঙ্কর সরকারের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষামূলক ভ্রমণে গিয়ে খাদে পড়ে নিহত হন তিনি।
গত মঙ্গলবার বারবিলে এক্সকার্সনের জন্য রওনা দেন পড়ুয়ারা। বৃহস্পতিবার কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। বুধবার বারবিল থেকে কিছু দূরে একটি নদী এবং জলপ্রপাত দেখার জন্য নামেন তারা। সেই জলপ্রপাতের কাছে ছবি তুলতে গিয়ে দুপুর ১২টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
জানা গিয়েছে, তারাশঙ্কর এবং আরেকজন পড়ুয়া খাদের কাছে এগিয়ে যান ছবি তুলতে। তারাশঙ্করের পা পিছলে গেলে তিনি খাদে পড়ে যান। অপরজন ঝুলতে থাকে এবং তাঁকে বাঁচান অন্যান্যরা।
তারাশঙ্করের দেহ উদ্ধারে পুলিশ, দমকল এবং বন দফতরের উদ্ধারকারী দল কাজ করে। শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়।
অধ্যাপক এবং পড়ুয়ারা তারাশঙ্করকে নিষেধ করেছিলেন খাদের কাছে যাওয়ার জন্য। কিন্তু, তিনি তা শোনেননি। ছবি তোলার নেশায় এগিয়ে গিয়েছিলেন।
এই ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং অধ্যাপকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। শিক্ষামূলক ভ্রমণে কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল? কেন ওই পড়ুয়াদের আগাম সতর্ক করা বা কড়া কোনও পদক্ষেপ করা হল না? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আশুতোষ কলেজের অধ্যক্ষ সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর তারা শিক্ষামূলক ভ্রমণে মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করছেন। একটি গাইডলাইন তৈরি করার কথা ভাবছেন। এক্সকারশনে মোবাইল ক্যামেরা বা ক্যামেরা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে এই গাইডলাইনে।
এদিকে, তারাশঙ্করের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আশুতোষ কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী এবং পড়ুয়ারা। তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানানো হয়েছে।