BigNews: রোমকে পেছনে ফেলে, পৃথিবীর ৮ম আশর্যের খেতাব ছিনিয়ে নিল এশিয়ার এই মন্দির

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ায় অবস্থিত আঙ্করভাট মন্দির বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। ১২ শতকে রাজা দ্বিতীয় সূর্যবর্মণ এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন তাঁর রাজধানী ও প্রধান উপাসনালয় হিসেবে। এই মন্দির বিশ্বের মধ্যে সর্ববৃহৎ ধর্মীয় স্মৃতিস্তম্ভের তালিকায় রয়েছে।
মন্দিরের বৈশিষ্ট্য:
আঙ্করভাট মন্দিরটি তার সুবিশাল স্থাপত্যশৈলীর জন্য বিখ্যাত। ৫০০ একর জমির উপর তৈরি এই মন্দিরটি হিন্দু দেবতা বিষ্ণুকে উৎসর্গ করে নির্মিত হয়েছিল। তবে পরে এটি রূপান্তরিত হয় বৌদ্ধ মন্দিরে। মন্দিরের দেওয়ালে হিন্দু ও বৌদ্ধ দুই ধর্মেরই সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন চোখে পড়ে। হিন্দু ধর্মের নানা নির্দশন খোদাই করা রয়েছে পদ্মের আকারের এই মন্দিরের দেওয়ালে। প্রাচীন জীবনযাত্রার গল্পও চিত্রিত রয়েছে মন্দিরের দেওয়ালে। মন্দির থেকে সূর্যোদয়ের দৃশ্য দেখলে আপনি মোহিত হয়ে যাবেন। ভোরের গোলাপি আলোয় মন্দির ঢাকা পড়ে যায়। মন্দিরের চূড়া ঢাকা পড়ে কমলা-সোনালির রঙের আভায়।
স্থাপত্যশৈলী:
আঙ্করভাট মন্দিরে দুই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, টেম্পল মাউন্টেন বা পাহাড়ি মন্দির ধাঁচ এবং গ্যালারি মন্দির ধাঁচ। মন্দিরের চারদিকে রয়েছে পরিখাও ৩.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রাচীর। ভিতরে রয়েছে তিনটি আয়তকার গ্যালারি ও বেদি আকৃতির উঁচু এলাকা। মন্দিরের একেবারে কেন্দ্রস্থলে রয়েছে স্তম্ভাকৃতির স্থাপনা। আঙ্করভাটের সঙ্গে অন্যান্য মন্দিরের পার্থ্য হল এটির সম্মুখভাগ পশ্চিমমুখী।
অর্থনৈতিক প্রভাব:
আঙ্করভাট মন্দিরের অষ্টম আশ্চর্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় কম্বোডিয়ার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক এই মন্দির দেখতে আসেন। মন্দিরটি অষ্টম আশ্চর্যের তালিকায় স্থান পাওয়ায় পর্যটকদের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে কম্বোডিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি আসবে।
আঙ্করভাট মন্দির বিশ্বের একটি বিস্ময়কর স্থাপত্য। এর সুবিশাল স্থাপত্যশৈলী, হিন্দু ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির মেলবন্ধন এবং সূর্যোদয়ের দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। আঙ্করভাট মন্দির বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্যের তালিকায় স্থান পাওয়ায় বিশ্বব্যাপী এর পরিচিতি আরও বাড়বে।