শেয়ার ট্রেডিং-এর ফাঁদ, ২৭ লাখ খুইয়েও অবশেষে ফিরে পেলেন অসুস্থ মেয়ের বাবা!

কলকাতা পোস্ট ট্রাস্টের এক কর্মী অনলাইন ট্রেডিং করতে গিয়ে প্রতারকদের ফাঁদে পড়েছিলেন। তাঁর বিনিয়োগ করা ২৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পোর্ট ডিভিশনের সাইবার ক্রাইম বিভাগ।
অভিযোগকারী সত্যরঞ্জন পট্টনায়কের মেয়ের হার্টের সার্জারির জন্য টাকার প্রয়োজন ছিল। তিনি বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন শেয়ার ট্রেডিং করে থাকেন। কিছুদিন আগে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তাঁকে অ্যাড করা হয়। এর পর গ্রুপের অ্যাডমিন তাঁকে গুগল প্লে-স্টোর থেকে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলে।
সেই মতো অ্যাপ ডাউনলোড করে তার মাধ্যমে স্টক কেনেন সত্যরঞ্জন। তাঁকে বলা হয়েছিল, বিনিয়োগ করলে ভালো রিটার্ন মিলবে। এমনকী ঋণের সুবিধাও মিলতে পারে। সত্যরঞ্জনের দাবি, অক্টোবর মাসে দফায় দফায় ২৭ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। পরে আর রির্টান পাননি। ঋণ তো দূরের কথা। টাকা দেওয়ার পর ওই অ্যাডমিনের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারেননি।
অভিযোগ পেয়ে তদন্ত নামে সাইবার সেল। তদন্তকারী অফিসাররা যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ট্রেডিং করা হয়েছিল, তা ফ্রিজ় করে দেন। এর পর ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তদন্তকারীরা। টাকা ফেরত দিতে পুলিশ আদালতেরও দ্বারস্থ হয়। কোর্ট সেই টাকা ফেরতের নির্দেশ দেয়।
ব্যাঙ্কের লিগ্যাল সেল সেই প্রক্রিয়া শেষ করতে দেরি করছিল বলে অভিযোগ। অবশেষে বৃহস্পতিবার খোয়া যাওয়া সেই টাকা ফেরত পান অভিযোগকারী।
সাইবার সেলের উদ্যোগ প্রশংসনীয়
সাইবার সেলের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
প্রতারকদের বিরুদ্ধে সতর্কতা
অনলাইন ট্রেডিং করতে গিয়ে প্রতারকদের ফাঁদে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। তাই অনলাইনে বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
অজানা ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোনও অ্যাপ ডাউনলোড করা উচিত নয়।
অনলাইনে বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই সেই প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত।
বিনিয়োগ করার আগে ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
এই সতর্কতাগুলো মেনে চললে প্রতারকদের ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।