কার নির্দেশে, কেন তৃণমূল নেতাকে হত্যা? ‘খুনি’র চঞ্চল্যকর বয়ান ভাইরাল নেটদুনিয়ায়

উৎসবের মাঝে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের বামনগাছি গ্রামে খুনের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সোমবার সকালে দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ হারান তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য সাইফুদ্দিন লস্কর। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতাকে খুন করতে আসা এক দুষ্কৃতীকে গণপিটুনিতে হত্যা করে উত্তপ্ত জনতা।

মৃত সাইফুদ্দিন লস্কর বামনগাছি অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী সেরিফা বিবি লস্কর বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতেরই তৃণমূলের পঞ্চায়েতের প্রধান। সোমবার ভোরবেলা মসজিদে যাচ্ছিলেন সাইফুদ্দিন। সেই সময় তার উপর গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। এক রাউন্ড গুলি চলে। গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুষ্কৃতীদের ধরতে গ্রামবাসীরা একত্রিত হন। দুষ্কৃতীদের দল পালাতে গেলে তাদের মধ্যে এক দুষ্কৃতীকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপরই তার উপর চড়াও হয় উত্তপ্ত জনতা। চলে বেধড়ক মারধর। ঘটনাস্থলের ৫০০ মিটার দূরে এলাকাবাসীর মারের চোটেই মৃত্যু হয় তার।

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। মৃত ওই তৃণমূল নেতা ও দুষ্কৃতীর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। পুলিশের অনুমান অভিযুক্তরা সকলেই বহিরাগত।

মৃতের বাবার অভিযোগ সিপিএম-এর আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে তৃণমূল নেতা খুনের পরই গ্রাম ঘিরে চলে হামলা। একের পর এক সিপিএম কর্মী-সমর্থকের বাড়ি ভাঙচুর, করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। প্রাণ ভয়ে ঘর ছাড়া বহু মানুষ। প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে গ্রামে তাণ্ডব চলে বলে দাবি গ্রামবাসীর।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।