OMG! জোড়া জরায়ুতে ‘যমজ’ সন্তান, বিরল গর্ভাবস্থা নিয়ে চর্চায় এবার চিকিৎসকরা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার বাসিন্দা কেলসি হ্যাচার একই সঙ্গে জোড়া শিশুর জন্ম দিতে চলেছেন। তবে তাদের যমজ বলার উপায় নেই। কারণ তারা মাতৃগর্ভে সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা জায়গায় রয়েছে। এই ঘটনাকে বিরলের মধ্যে বিরলতম বলে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা।
কেলসির দেহে দুটি জরায়ু রয়েছে। তাই দুটি ভিন্ন জায়গায় দুটি ভিন্ন শিশু বড় হচ্ছে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
কেলসির চিকিৎসক, ভারতীয় বংশোদ্ভূত শ্বেতা প্যাটেল বলেন, “এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে আপনি হয়তো গোটা জীবন অপেক্ষা করে থাকবেন। তার পরও এমন কোনও গর্ভবতীর সন্ধান যে পাবেন এমনটা নয়।”
অন্যদিকে, কেলসির সন্তানের জন্ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বার্মিংহামের আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক-অধ্যাপক রিচার্ড ডেভিস। তিনি বলেন, “বিশ্বের মাত্র এক শতাংশ মহিলার দুটি করে জরায়ু রয়েছে। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার প্রবণতা বা সম্ভাবনা খুব কম।”
“এই ধরনের ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা মহিলার প্রসবের ঝুঁকি মারাত্মক। কারণ একে ঠিক যমজ সন্তান বলা যাবে না। আবার এক সঙ্গেই দু’শিশুর জন্ম হবে। অনেক সময় সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে গর্ভীবতী মহিলার মৃত্যু পর্যন্ত হয়। আবার প্রসবের সময় গর্ভে থাকা সন্তানেরও মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে,” বলেন আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক-অধ্যাপক ডেভিস।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এক্ষেত্রে একসঙ্গে দু’টি সন্তানের জন্ম না দেওয়াই ভালো। সেক্ষেত্রে একটি শিশুর জন্মের পর কয়েকদিনের ব্যবধানে অপর সন্তানের প্রসবের ব্যবস্থা করতে হবে।
কেলসির চিকিৎসক শ্বেতা প্যাটেল বলেন, “বিজ্ঞানের পরিভাষায় হয়তো একে যমজ বলা যাবে না। কিন্তু আমার কাছে তারা যমজ শিশুই।”
চলতি বছরের বড়দিনের সময় কেলসি প্রসব করবেন বলে জানান তিনি।
তবে বিষয়টি নিয়ে একেবারেই হেলদোল নেই ওই মার্কিনি মহিলার। মাতৃত্ব উপভোগ করতে মুখিয়ে আছেন তিনি।
“আগেও মা হয়েছি। কিন্তু এবারের বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা। আমার সন্তান প্রসবের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা চিকিৎসক মহল। সকলেই আলাদা করে আমার খোঁজ নিচ্ছেন, খেয়াল রাখছেন। এটা একটা বিরল অভিজ্ঞতা,” বলেন কেলসি।
প্রসবের দিন চিকিৎসকদের একটি অতিরিক্ত টিমকে স্ট্যান্ড বাই রাখা হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে মিলেছে খবর।