BJP: ‘২০২১-এর থেকেও খারাপ ফল হবে…’, দলের বিরুদ্ধে ফের মুখ খুললেন তথাগত রায়

আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের থেকেও খারাপ ফল হবে বলে জানালেন তিনি। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটকে ‘একত্রিত’ করার কথা না ভাবলে নির্বাচনে দলের খারাপ ফলের ইঙ্গিত দিলেন তিনি।

কী জানালেন তথাগত?

বিজেপি নেতা তথাগত রায় তার টুইটার হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে নামার সময় ৩০% মুসলমান ভোট আঁচলে বেঁধে নামেন। অতএব, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির একমাত্র উপায় হচ্ছে ৭০% হিন্দু ভোটকে একত্রিত করা। এই সরল সত্যটিকে না বুঝে অঞ্চল কমিটির প্রেসিডেন্ট আর মণ্ডল কমিটির সেক্রেটারিকে হবে তা নিয়ে মেতে থাকলে অবস্থা ২০২১-এর চাইতেও খারাপ হবে।”

দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

তথাগত রায় এর আগেও একাধিকবার দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সপ্তাহ খানেক আগেও তিনি দলের রাজ্য নেতৃত্বকে ‘পদ’ নিয়েই মেতে থাকার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের বাকি আর কয়েক মাস বাকি রয়েছে। কিন্তু তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচারে ঝড় তোলার জন্য একটি নির্দিষ্ট ইস্যুও বঙ্গ বিজেপির হাতে নেই। শুধু দলীয় পদ নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা।”

সংগঠন নিয়ে সমস্যা

তথাগত রায় আরও বলেন, “সংগঠন ধরে রাখতে দলের নীতি ও প্রচারের নির্দিষ্ট কিছু বিষয় থাকা দরকার রয়েছে। বর্তমানে দলের কোনও মুখপত্র নেই। দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা নেই কারোরই। কে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং মণ্ডলের দায়িত্ব পাবেন সেটা নিয়ে ব্যস্ত সবাই।”

অস্বস্তিতে বিজেপি

তথাগত রায়ের এই মন্তব্যের কারণে রাজ্য বিজেপি অস্বস্তিতে পড়েছে। দলের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তথাগত রায়ের এই মন্তব্যের ফলে গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হবে।

কী বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা?

রাজনীতিবিদ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তথাগত রায়ের এই মন্তব্যের ফলে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাঘাত ঘটবে। দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসায় দলের কর্মীদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, তথাগত রায়ের এই মন্তব্যের ফলে বিজেপির ভোট ব্যাংকেও প্রভাব পড়তে পারে। হিন্দু ভোটকে একত্রিত করতে না পারলে বিজেপির পক্ষে পশ্চিমবঙ্গে জয়লাভ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *