“গাজার হাসপাতালে হামলায় বিশ্ব নিশ্চুপ থাকতে পারে না”

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর টানা প্রায় দেড় মাস ধরে চালানো অবিরাম হামলায় এখন পর্যন্ত ১১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। হামলা হচ্ছে হাসপাতালেও। গাজার সবচেয়ে বড় দুটি হাসপাতাল এরইমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

বর্তমান এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস। এমনকি গাজায় রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকার আল-শিফা হাসপাতাল এখন আর চিকিৎসা অবকাঠামো হিসাবে কাজ করছে না বলে ডব্লিউএইচও প্রধান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (টুইটার) তিনি বলেছেন, ‘দুঃখের বিষয় হচ্ছে, গাজার এই হাসপাতালটি আর হাসপাতাল হিসাবে কাজ করছে না। হাসপাতালগুলো নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়ার কথা থাকলেও এসব স্থান যখন মৃত্যু, ধ্বংস এবং হতাশার দৃশ্যে রূপান্তরিত তখন বিশ্ব চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।’

হাসপাতালের ‘ভয়াবহ এবং বিপজ্জনক’ পরিস্থিতির ওপর জোর দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই প্রধান বলেন, গত তিন দিন ধরে গাজার এই হাসপাতালে বিদ্যুৎ ও জলের সংকট এবং দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। এসব কারণে রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের কাজ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে যুদ্ধবিরতির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া ইসরায়েলের এই বিমান হামলা থেকে বাদ যাচ্ছে না গাজার কোনও অবকাঠামো। তারা মসজিদ, গির্জা, স্কুল, হাসপাতাল ও বেসামরিক মানুষের বাড়ি-ঘর সব জায়গায় হামলা চালিয়ে আসছে।

অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ১১ হাজার ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। নিহত এসব ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি শিশু। এছাড়া নিহতদের মধ্যে নারীর সংখ্যাও তিন হাজারের বেশি।

পরিস্থিতি এতোটাই খারাপ যে, গাজার দুটি বৃহত্তম হাসপাতাল- আল-শিফা এবং আল-কুদস হাসপাতাল উভয়ই বন্ধ হয়ে গেছে। ইসরায়েলি স্নাইপাররা আল-শিফা হাসপাতালের কাছে কাউকে দেখতে পেলেই তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালটির ভেতরে হাজার হাজার মানুষকে আটকে রেখেছে ইসরায়েল।

এছাড়া গেব্রেয়াসুস গাজার হাসপাতালগুলোতে ‘ভয়াবহ এবং বিপজ্জনক’ পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, হাসপাতালে হামলার ঘটনায় অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয়া শিশুসহ আরও বহু রোগী ‘দুঃখজনকভাবে’ মারা যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *