কেষ্ট যুগ অতীত? নাম বাদ পড়তেই ‘ফিসফিস’ শুরু বীরভূম জেলা তৃণমূলে

বীরভূমের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে ‘কেষ্ট’ নামটি চিরদিনের জন্য বিলীন হতে পারে কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনই দেওয়া কঠিন। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বশেষ জেলা সভাপতি তালিকা প্রকাশের পর জেলার ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে সেই গুঞ্জন উঠেছে।

গতবারের তালিকার মতো এবারও জেলা সভাপতি পদটির পাশে অনুব্রত মণ্ডলের নাম ছিল। তবে এবার সেই জায়গায় লেখা হয়েছে ‘কোর কমিটি টু কমিটি’। অর্থাৎ, জেলা সভাপতির দায়িত্ব এখন থেকে কোর কমিটিই সামলাবে।

এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস বলছে, আগামী বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে দলে ‘কালিমালিপ্ত’ নামগুলি ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলতে চায় তারা। তবে দলের অন্দরে গুঞ্জন রয়েছে, নতুন কাউকে জেলা সভাপতি পদে বসানোর ব্যাপারে দল এখনই ঝুঁকি নিতে চাইছে না। তাতে সংগঠনের অন্দরে হিতে বিপরীত হতে পারে।

অনুব্রত মণ্ডলের প্রভাব এখনও বীরভূমে রয়েছে। তাই লোকসভার আগে ঝামেলা না বাড়ানোর জন্যই এমন সিদ্ধান্ত।

বীরভূমে ২০১০ সাল থেকে একহাতে দায়িত্ব সামলেছেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর জেল যাত্রার পরেও জেলা সভাপতি পদের পাশ থেকে তাঁর নাম সরে যায়নি। তবে নির্বাচনের মুখে বিরোধীদের প্রচারের অস্ত্র ভোঁতা করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে জেলা তৃণমূল।

বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত একনায়কতন্ত্রের প্রভাবকেই কার্যত সিলমোহর দিল। তারা বলছে, এখন অনুব্রত মণ্ডল জেলা সভাপতি পদ থেকে বাদ দিলে তিনি অনেক কিছু ফাঁস করে দেন কিনা সেটাই দেখার।

তবে, জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী বলছেন, অনুব্রত মণ্ডল তো দলের মধ্যেই আছেন। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নিশ্চয়ই কিছু চিন্তাভাবনা আছে।