রাজ্যে নতুন ২০টি মহিলা থানার প্রস্তাব, পুলিশে হবে আরও নিয়োগ?

রাজ্যে বর্তমানে মহিলা থানার সংখ্যা প্রায় ৪০টি। মহিলাঘটিত অপকর্ম ঠেকাতে প্রতি মহকুমায় একটি করে হলেও মহিলা থানা বানানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছিলেন।
রাজ্যে প্রথম মহিলা থানা তৈরি হয় ২০১২ সালে। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনে প্রথম মহিলা থানা হয়। পরে কয়েক দফায় আরও মহিলা থানা গড়া হলেও বাহিনীতে মহিলা পুলিশকর্মীর সংখ্যা সেভাবে বাড়েনি। মহিলা থানা বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই আরও বেশি করে নানান পদের পুলিশ কর্মীদের প্রয়োজন হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি মহিলা থানায় এক জন ইনস্পেক্টর, ছয় থেকে সাত জন সাব-ইনস্পেক্টর (SI), আট জন এএসআই (ASI) এবং ২০ জন কনস্টেবল থাকার কথা। বাস্তব চিত্র বলছে, তিন জন SI থাকেন, পাঁচজন ASI থাকেন, ১০ জন লেডি কনস্টেবল থাকেন। প্রতিটি মহিলা থানায় হাতে গোনা অফিসার এবং কর্মী আছেন। তাই নতুন থানা তৈরি করলে দরকার হবে আরও মহিলা পুলিশকর্মীর। ফলে কর্মসংস্থানের সুবিধা হবে।
রাজ্য পুলিশের তরফে মঙ্গলবার নবান্নে নতুন করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে ২০টি নতুন মহিলা থানা তৈরির। রাজ্যের ১৬টি মহাকুমা স্তরে এই মহিলা থানাগুলি তৈরি হবে। প্রস্তাবিত মহিলা থানাগুলি হল:
সুন্দরবনের কাকদ্বীপ
মুর্শিদাবাদের ডোমকল, কান্দি, লালবাগ
পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া, কালনা
দার্জিলিঙের কার্শিয়ং
কোচবিহারে তুফানগঞ্জ, মাথাভাঙা
মালদায় চাঁচল
হুগলি গ্রামীণে পাণ্ডুয়া, সিঙ্গুর
পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক, কল্যাণী
বীরভূমের রামপুরহাট
পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল
বাঁকুড়ায় বিষ্ণুপুর
দক্ষিণ দিনাজপুরে গঙ্গারামপুর
ইসলামপুরে ইসলামপুর
বসিরহাট পুলিশ জেলার বসিরহাট
রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন করে ২০টি মহিলা থানা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য পুলিশ। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের মহিলা থানার সংখ্যা দাঁড়াবে ৬০। মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ ঠেকাতে এবং মহিলারা যাতে তাঁদের বক্তব্য দ্বিধাহীন ভাবে জানাতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।