ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুদ্ধে ইসরায়েলের ১১ সেনা নিহত, জেনেনিন যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি

গাজায় স্থল অভিযানে গিয়ে গোষ্ঠী হামাস যোদ্ধাদের হাতে ১১ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া আরো দুই সেনা গুরুতর আহত হয়েছে বলে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে। হামাসের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে নিহত সেনাদের তালিকা হালনাগাদ করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার গাজায় মারা যাওয়া ১১ সেনাসহ মৃতের সংখ্যা এখন ৩২৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

এই সেনাদের সবার বয়স ছিল ১৯ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের ওয়েবসাইটে একটি তালিকার আপডেট করেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে তাদের কতজন সেনা নিহত হয়েছে। ওয়েবসাইটটিতে নিহতদের বয়স উল্লেখসহ ছবি পোস্ট করা হয়েছে।

হামাস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে গাজার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলিদের ওপর ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও মেশিন গান হামলা করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের বেসামরিক লোকদের ওপর ইসরায়েলের হামলা ও স্থল অভিযান নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকার মধ্যে এমন হামলা চালিয়েছে তারা।

গাজায় ক্রমেই স্থল অভিযানের পরিধি বাড়াচ্ছে ইসরায়েল। দেশটি জানিয়েছে, হামাসের হামলায় তাদের ১৪০০ নাগরিক নিহত হয়েছে। ফলে হামাসকে শাস্তি দিতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ইসরায়েলের সেনারা গাজার উত্তর ও দক্ষিণের প্রধান সড়ককে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। সোমবার এসব শহরের দুটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তাদের সেনারা।

উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাস যোদ্ধাদের নজিরবিহীন হামলার প্রতিশোধ নিতে ওই দিন থেকেই গাজায় অবিরাম হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। তারা হামাসকে নির্মূল করার প্রত্যয় ঘোষণা করেছে। কিন্তু যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে তা কীভাবে শেষ হবে তা নিয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৩ হাজার ৫৪২ জন শিশু। নিহত নারীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়া এ বর্বর হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ২১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক আহত হয়েছেন।

এর আগে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েল ৫৩টি গণহত্যা চালিয়েছে।

ইসরায়েলের হামলায় বিপর্যস্ত গাজা। সেখানে তীব্র মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের সর্বাত্মক অবরোধের কারণে খাবার, জলসহ জরুরি পণ্যের মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় গর্ভবর্তী নারী, শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ লবণাক্ত ও দূষিত জল পান করতে বাধ্য হচ্ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *