OMG! বিষ বাতাসে আক্রান্ত ফুসফুস, শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বাড়ল ১৫ শতাংশ

দিল্লি ও তার সংলগ্ন এলাকায় বায়ু দূষণের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে রাজধানীর সমস্ত হাসপাতাল ভর্তি হয়ে যাবে। পাশাপাশি দেখা দিতে পারে অক্সিজেনের আকাল।
গত ৩ দিনে দিল্লি ও তার আশপাশের হাসপাতালগুলিতে ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে রোগী ভর্তির পরিমাণ ১৫ শতাংশ বেড়েছে। বহির্বিভাগে ২৮-৩০ শতাংশ বেড়েছে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগীর সংখ্যা।
চলতি মাসের ২৫ তারিখে দিল্লিতে বায়ু দূষণের মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই দিন এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ৩০০ ছাপিয়ে গিয়েছিল। গত দু’দিনে যা খুব একটা নামেনি। বুধ ও বৃহস্পতিবারে একিউআই-র পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২৮৪ ও ২৭৩।
চিকিৎসকদের দাবি, মাত্রাতিরিক্ত দূষণের জেরেই বাড়ছে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা। এছাড়া দেখা দিচ্ছে মাথাব্যথা ও ক্লান্তির মতো উপসর্গ।
দিল্লির একাধিক হাসপাতালের মেডিক্য়াল সুপাররা এই ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ধর্মশিলা নারায়ণ সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের পালমোনোলজির সিনিয়র কনসালট্যান্ট নবনীত সুদ জানিয়েছেন, ‘সিওপিডির রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তা উদ্বেগজনক। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্য়েই রোগীরা হাসপাতালে ফিরে আসছেন। তাঁদের ফের ভর্তি নিতে হচ্ছে।’
রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের পালমোনোলজির বিভাগীয় প্রধান সুমিত রায়ের কথায়, ‘শ্বাসকষ্ট ঠেকাতে রোগীদের বাধ্য হয়ে ইনহেলার দিতে হচ্ছে। আগামী দিনে ইনহেলার হয়ত এই এলাকার নিত্য় সঙ্গী হয়ে যাবে। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে মোটেই ভালো নয়।’
দিল্লি পুরসভা দূষণ ঠেকাতে ২২ জন অফিসারের একটি বিশেষ টিম তৈরি করেছে। তবে এই দূষণের জন্য পঞ্জাব-হরিয়ানার কৃষকদের ফসলের গোড়া পুড়িয়ে দেওয়াকেই দায়ী করেছে কেজরিওয়াল প্রশাসন।
শীত বাড়লে দূষণের মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের। তখন কুয়াশার বদলে ধোঁয়াশা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।