ছোটতেই অনাথ, জুটতোনা খাবার! পরান বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনকাহিনী জানলে কষ্ট হবে আপনারও

পরান বন্দ্যোপাধ্যায় একজন গুণী অভিনেতা যিনি থিয়েটার, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছেন। তার অভিনয় সব বয়সের মানুষের কাছেই জনপ্রিয়। কিন্তু তার জীবনের গল্প অনেকেরই অজানা।
পরান বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৪০ সালের ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশের যশোর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র কয়েক মাস বয়সে মাকে হারিয়ে ফেলেন তিনি। তার বাবা স্ত্রীয়ের মৃত্যুশোক সহ্য করতে না পেরে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। পরান বন্দ্যোপাধ্যায়কে তার পিসি লালন-পালন করেন।
১৪ বছর বয়সে থিয়েটারে যোগ দেন পরান বন্দ্যোপাধ্যায়। সিটি কলেজ থেকে পাশ করার পর তিনি সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। তবে এই সময়টায় থিয়েটারের কাজ বন্ধ ছিল না।
পরান বন্দ্যোপাধ্যায় ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। তবে সেই সময় ভালোবেসে বিয়ে করার চল ছিল না। তাই পরিবার থেকে আলাদা হয়ে সংসার পাততে হয়েছিল তাকে।
পরান বন্দ্যোপাধ্যায় তার অভিনয় জীবন শুরু করেন ৬০ বছর বয়সে। ২০০০ সালে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তার উপর নজর পড়ে মানিক বাবুর ছেলে সন্দীপ রায়ের। সেই সময় ‘সাধন বাবুর সন্দেহ’ গল্পের জন্য একদম আনকোরা কাউকে খুঁজছিলেন তিনি। পরানকে দেখেই মনে ধরে তার।
প্রথম কাজ শুরু হয় টেলিভিশনের হাত ধরে। ‘জন্মভূমি’ নামক একটি মেগা সিরিয়ালে তার অভিনয় সকলকে স্তব্ধ করে দেয়। পরবর্তী ১০ বছরে তার ঝুলিতে আসে মোট ৩৫ টিরও বেশি সিনেমা।
পরান বন্দ্যোপাধ্যায় তার অভিনয়ের জন্য অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। ২০১৬ সালে তিনি ভারত সরকারের পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হন।
পরান বন্দ্যোপাধ্যায় একজন দক্ষ অভিনেতা যিনি তার অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে অমর হয়ে থাকবেন। তিনি তার পড়ন্ত বয়সে এসেও সাফল্য অর্জন করে প্রমাণ করেছেন যে কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা সবকিছুই সম্ভব করে তোলে।