“প্রমাণ থাকলে পাঠাচ্ছেন না কেন?”- খালিস্তানি নিজ্জর খুনে বিস্ফোরক কানাডার সাংসদ

খালিস্তানি সন্ত্রাসবাদী হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ভারত ও কানাডার মধ্যে কূটনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ছে। এই ইস্যুতে নিজের দেশেও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।
গত সোমবার কানাডার সাংসদ কেভিন ভুওং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় গুপ্তচরদের জড়িত থাকার দাবি করেছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো এবং শিখ সাংসদ জগমিত সিংকে এই দাবি প্রমাণ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ভুওং বলেছেন, “নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, সেই সংক্রান্ত স্পষ্ট প্রমাণ জগমিত সিংয়ের হাতে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। কিন্তু সেই প্রমাণ তিনি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাচ্ছেন না কেন? কে বা কারা তাঁকে এই কাজ করতে বাধা দিচ্ছেন? নাকি প্রমাণ না থাকার ভয়ে তিনি মুখে কুলুপ এঁটেছেন?”
এর আগে গত মাসে কানাডার পার্লামেন্টে নিজ্জর হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো। তিনি বলেছিলেন, এই হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় গুপ্তচরদের জড়িত থাকার যাবতীয় তথ্য প্রমাণ তাঁর হাতে রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবিকে “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে খালিস্তানি সন্ত্রাসবাদীরা জড়িত।
এই ইস্যুতে ভারত-কানাডার মধ্যে কূটনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ছে। গত মাসে কানাডার কূটনৈতিক দলের ভারত সফর বাতিল হয়। পাশাপাশি ভারতে কর্মরত এক কানাডিয়ান কূটনীতিককে দেশে ফিরতে বলা হয়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারত কানাডার এক কূটনীতিককে পাঁচ দিনের মধ্যে ভারত ছাড়তে বলেছে।
চলতি সপ্তাহে ভারত কানাডাকে আরও কড়া পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে। ট্রুডো প্রশাসনকে তাঁদের কূটনীতিকের সংখ্যা কমাতে বলা হয়েছে। নির্দেশ না মানলে কানাডার কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারত।
এই সংঘাতের জেরে ভারত ও কানাডার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।