TOTO: রাস্তায় বাড়ছে জ্যাম, পুজোরে আগেই টোটো বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রশাসনের! ব্যাপক বিক্ষোভ চালকদের

যানজট কমাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের একটি রুটে টোটো চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে বারুইপুরের যুগীবটতলা থেকে ফুলতলা পর্যন্ত, মেইন রোডে বন্ধ থাকবে টোটো চলাচল।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে টোটোচালকদের মধ্যে। তাদের দাবি, প্রশাসন আগে ব্যবস্থা নিলে, এত টোটো রাস্তায় চলত না। এই টোটো চালিয়েই তাদের সংসার চলে।

এক টোটোচালক বলেন, “করোনার সময় আমরা ধারদেনা করে টোটো কিনেছি। তাহলে এতদিন কেন বন্ধ করেনি? এতদিন বন্ধ করলে এত টোটো চলত না। যে শোরুমগুলো করেছে, সেগুলিও বন্ধ করা রদরকার ছিল, কিন্তু সেগুলিও বন্ধ করেনি। এতদিন ছাড় দিয়ে রেখে, আজ কেন আমাদের দুর্ভোগের মুখে ফেলছে? আমরা গরীব মানুষ, প্রত্যেকের বাড়িতে ৪-৫ জন করে সদস্য আছেন। আমরা কী করে চালাব? প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি, যে ভাবে রাস্তায় আমাদের টোটো চলে, সেই ভাবে চালাতে দিক। আমরা আইন মেনেই রাস্তায় টোটো চালাব।”

বিষয়টি দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশেও আর্জি জানিয়েছেন টোটোচালকরা।

প্রসঙ্গত, গত মাসেই উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর ১৫ নম্বর রেলগেট থেকে চিড়িয়া মোড় পর্যন্ত টোটো চলাচল নিষিদ্ধ করে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। ওই এলাকায় টোটো চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় সমস্যায় পড়তে হবে বলে জানিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও।

পরিবহণ দফতরের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি

পরিবহণ দফতরের দাবি, বারুইপুরে টোটো চলাচলের ফলে যানজট বেড়ে যায়। বিশেষ করে পুজোর সময় এই সমস্যা আরও প্রকট হয়। তাই টোটো চলাচল বন্ধ করে দিয়ে যানজট কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে দফতর।

দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, “টোটো একটি অনিয়মিত পরিবহন। এই টোটোগুলি বেশিরভাগই বেআইনিভাবে চলাচল করে। তাই এই টোটোগুলি বন্ধ করে দিয়ে যানজট কমানো সম্ভব হবে।”

টোটোচালকরা কী বলছেন?

টোটোচালকদের দাবি, তারা আইন মেনেই টোটো চালায়। কিন্তু প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি করে। তাই তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন।

এক টোটোচালক বলেন, “আমরা আইন মেনেই টোটো চালায়। কিন্তু প্রশাসন আমাদের বিরুদ্ধে হয়রানি করে। আমাদের টোটো আটকে দেওয়া হয়, জরিমানা করা হয়। তাই আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের মত

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, টোটো চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হলে তাদের সমস্যা হবে। কারণ টোটোই তাদের একমাত্র ভরসা।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “টোটো আমাদের একমাত্র ভরসা। টোটো চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হলে আমাদের সমস্যা হবে।”

পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

টোটোচালকদের প্রতিবাদের মুখে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে, তা এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *