চাকরির নামে আদায় করেছেন লক্ষ লক্ষ টাকা! পুলিশের জালে এবার BJP ঘনিষ্ঠ শিক্ষক

কোচবিহারের সিতাই হাইস্কুলের শিক্ষক সুকুমার দাসকে চাকরির নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে চার চাকরি প্রার্থী সহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকরির নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ জমা পড়ে। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে।

তৃণমূলের দাবি, ওই শিক্ষক বিজেপির ঘনিষ্ঠ। তিনি চাকরির নামে অনেকের থেকে টাকা তুলেছেন। টাকা ফেরত না দেওয়ার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।

তবে বিজেপির দাবি, ওই শিক্ষক তাঁদের দলের কেউ নয়। তাঁকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে।

নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য তোলপাড়। এই ঘটনায় গোটা জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

শিক্ষক গ্রেফতারের বিষয়ে তৃণমূল ও বিজেপির প্রতিক্রিয়া

তৃণমূল বিধায়ক জগদীশ বর্মা বাসুনিয়া বলেন, “চাকরির নামে অনেক যুবকের থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরেই ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যে চাকরি দেওয়ার নামে যে মানুষের থেকে যে টাকা তোলে সে একজন প্রতারক। সে যদি আমাদের দলেওর হত, আমরা সমর্থন করতাম না।”

কোচবিহার জেলা বিজেপির নেতা দীপক রায় বলেন, “ওই শিক্ষক বিজেপির দলীয় কোনও পদে নেই বলেই আমি জানি। বিধায়কের অঙ্গুলিহেলনে এই কাজ করা হয়েছে। চক্র ফাঁসানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক, এটাই আমাদের দাবি।”
নিয়োগ দুর্নীতির রাজ্যের অন্যতম বড় ইস্যু

রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অন্যতম বড় ইস্যু। প্রাইমারি টেট ও এসএসসিতে অযোগ্যদের পাশ করিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আদালতের রায়ে অনেক অযোগ্য প্রার্থীর চাকরি বাতিল করা হয়েছে। এখনও অবধি এই মামলার তদন্ত চালাচ্ছে ইডি-সিবিআইয়রে মতো কেন্দ্রীয় সংস্থা গুলি। একাধিক নেতা-মন্ত্রী গ্রেফতার হয়েছে। আগামী দিনে এই মামলা কোনদিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।