‘বায়োমেট্রিক’ প্রতারণা জমি-ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রিতেও! ওয়েবসাইট থেকেই আঙুলের ছাপ-আধার চুরি

বায়োমেট্রিক প্রতারণার ঘটনায় এবার সম্পত্তি রেজিস্ট্রির আঙুলের ছাপও ব্যবহার হচ্ছে। সরকারি রেজিস্ট্রি অফিসের সার্ভার থেকেই সেই তথ্য চলে যাচ্ছে প্রতারকদের হাতে। বায়োমেট্রিক তথ্য হাতে পেয়ে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট সাফ করছে তারা।

পুলিশ সূত্রে খবর, জমি রেজিস্ট্রেশনের দফতরগুলি থেকে জানা গিয়েছে, জমি-বাড়ি কেনাবেচার সময় নেওয়া আঙুলের ছাপ ও আধার নম্বর ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। অনলাইনে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে যে কোনও ব্যক্তি সেই তথ্য পেতে পারেন। পাওয়া যায় জমির দলিলও। তাতে মালিকের আধার নম্বর ও আঙুলের ছাপ থাকে। সেই তথ্য ব্যবহার করেই বায়োমেট্রিক ক্লোন করা হচ্ছে বলে সন্দেহ পুলিশের।

রেজিস্ট্রেশন অফিসের কর্মীরা জানিয়েছে, আগে দলিলের কপি পেতে হলে সশরীরে রেজিস্ট্রেশন অফিসে এসে আবেদন করতে হত। এখন গোটা প্রক্রিয়াটি অনলাইনে হওয়ায় রেজিস্ট্রেশন অফিসে যাওয়ার কোনও প্রয়োজায় পড়ে না। নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে দলিল নম্বর, জমির রেকর্ড নম্বর, নাম প্রভৃতি দেওয়া হলে তা ডাউনলোড করা যায়। এই ধরনের তথ্য থাকলেই সহজেই দলিল ডাউনলোড করা যায়।

এই প্রতারণার ফলে প্রতারিতদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও, তাদের নামে বিভিন্ন ঋণপত্র নেওয়া হচ্ছে।

কীভাবে এই জালিয়াতি বন্ধ করা যায়?

রেজিস্ট্রেশন অফিসের কর্মীদের দাবি, এখন থেকে জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের সময় আধার কার্ডের বদলে ভোটার কার্ড ব্যবহার করলে তাতে অনেক কম ঝুঁকি থাকবে। কারণ দলিল করার সময় আধার নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। আঙুলের ছাপসহ দলিলের যাবতীয় তথ্য রেজিস্ট্রি অফিসের কম্পিউটারে থাকে। সেই কম্পিউটার থেকে নথি পাচার করা সম্ভব নয়। তাই অনলাইনে আধার তথ্য ডাউলোড করা বন্ধ করা গেলে প্রতারণা রোখা সম্ভব।