OMG! বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্রের ছড়াছড়ি! সিনেমার কায়দায় অভিযান পুলিশের, গ্রেফতার ১ জন

রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় অবৈধ অস্ত্র কারখানার হদিশ মিলেছে। এই কারখানার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বারুইপুর পুলিশ জেলার স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ, জয়নগর থানা এবং বকুলতলা থানার পুলিশ যৌথভাবে একটি অভিযান চালায়। মূলত ক্রেতা সেজে যোগাযোগ করা হয় অস্ত্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে। নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে মঙ্গলবার বিকেলে অস্ত্র ডেলিভারি করার কথা ছিল ওই বিক্রেতার। জয়নগরের ময়দা এলাকায় একটি নার্সিংহোম এর সামনে অস্ত্র লেনদেনের জায়গা ঠিক হয়। সন্ধে ৬টা টাইম দেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয় ধৃতকে।

পরে পুলিশ কর্মীরা ক্রেতা সেজে বাইক ও অটোতে ছিল। বিভিন্ন জায়গায় ঘোরার পর ময়দা এলাকা থেকেই অভিযুক্তকে ধরা হয়। ধৃতের বাড়ি জয়নগর থানা এলাকার কাশীপুর কামারিয়া এলাকায়। মূলত নির্জন এলাকায় দুই কামরার ঘর ও সামনে চালা থাকা বাড়িতে চলছিল অস্ত্র তৈরির কারবার। বাড়ির পেছনেই রয়েছে পুকুর। যাতে কেউ কিছু বুঝতে না পারে। পুকুরের ভিতরেও আর্মস লুকানো ছিল। সেখান থেকেও আর্মস উদ্ধার করে পুলিশ। বাড়িতে অভিযুক্ত তার স্ত্রী ও ছেলে থাকত। ধৃত বড় অস্ত্র সরবরাহকারী বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে আর্মস তৈরি করার পালিশ মেশিন, ড্রিল মেশিন, ডাইস, ফাইল, করাত, হ্যাক্সো, বাটালি, হাতুড়ি, লোহার পাত, পাইপ। ৮টি ওয়ান সাটার, ২ টো লং মেশিন উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বাড়ির মধ্যে লুকিয়ে এই ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হতো বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সন্তর্পনে চলত অস্ত্র কেনাবেচার কারবার। ধৃতের সঙ্গে আর কারা জড়িত তার খোঁজখবর চলছে।

ধৃতের নাম রহমতুল্লা শেখ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অস্ত্র কারখানার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র সরবরাহ করতেন। পুলিশ ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে।

এই ঘটনায় রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কেন এতদিন ধরে এই অস্ত্র কারখানা চলতে পারল? এই অস্ত্র কারখানার সঙ্গে আর কারা জড়িত? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার দাবি উঠেছে।