এক দেশ এক নির্বাচনই লক্ষ্য? বিশেষ অধিবেশনের অ্যাজেন্ডা প্রকাশ করলো মোদী সরকার

আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বিশেষ অধিবেশন। এই অধিবেশনে স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপনের পাশাপাশি চারটি সাধারণ বিল পেশ করা হবে বলে সরকার জানিয়েছে।
বুধবার সংসদের বিশেষ অধিবেশনের কার্যবিবরণী প্রকাশ করে কেন্দ্র। তাতে বলা হয়েছে, লোকসভায় অ্যাডভোকেটস (সংশোধন) বিল, ২০২৩ এবং দ্য প্রেস অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অফ পিরিওডিকালস বিল, ২০২৩ পেশ করা হবে। এই বিল দুটি গত ৩ অগাস্ট বাদল অধিবেশনের সময় রাজ্যসভায় পাশ হয়েছিল।
এছাড়াও, রাজ্যসভায় আলোচনার জন্য পেশ করা হবে পোস্ট অফিস বিল এবং নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনার বিল, ২০২৩। গত ১০ অগাস্ট বিল দুটি সংসদের উচ্চকক্ষে পেশ করা হয়।
সংসদের বিশেষ অধিবেশন ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
বিশেষ অধিবেশনের জল্পনা অবসান
সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা নিয়ে কম জল্পনা হয়নি। ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ নিয়ে সরকার বিশেষ অধিবেশনে আলোচনা করতে পারে বলে উঠেছিল আওয়াজ। অন্য একটি অংশের মত ছিল, দেশের নাম পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা হতে পারে বিশেষ অধিবেশনে। কেউ কেউ আবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রসঙ্গও তুলে ধরেছিলেন।
তবে, বিশেষ অধিবেশনের কার্যবিবরণী ঘোষণার মধ্য দিয়ে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটল।
উল্লেখযোগ্য বিল নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত
বিশেষ অধিবেশনে পেশ করা চারটি বিলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিল হচ্ছে নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনার বিল, ২০২৩। নতুন এই বিলে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে।
কয়েকদিন আগে এই সংক্রান্ত একটি অর্ডিন্যান্স জারি করেছিল মোদী সরকার। তাতে বলা হয়েছিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে কোনও ভূমিকা থাকবে না সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির।
সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা এবং একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে নিয়ে গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে বলা হয়েছিল।
মুখ্যনির্বাচন কমিশনার নিয়োগ নিয়ে কেন্দ্রের এই অর্ডিন্যান্সের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী দলগুলি। এবার সেই অর্ডিন্যান্সটি বিলের আকারে নিয়ে আসা হচ্ছে। বিলটি আলোচনার জন্য রাজ্যসভায় পেশ করা হলে, অধিবেশন উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।