“৯ ঘণ্টা তো দূর ৯৬ ঘণ্টা জেরা করলেও আমাকে দমাতে পারব না”-জানিয়ে দিলেন অভিষেক

আবারও টানা ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ইডি অফিস থেকে বেরলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে ধারালো আক্রমণ শানালেন।
প্রথমেই তিনি বললেন, “সমন্বয় বৈঠকে যাতে যোগ দিতে না পারি, তার জন্যই আজকে বেছে বেছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।”
একইসঙ্গে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের প্রতি আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী জোট ও তৃণমূলকে ভয় পাচ্ছে। আমাকে টানা ৯৬ ঘণ্টা, টানা ৪ দিন জেরা করলেও মেরুদণ্ড বিক্রি হবে না। আমাকে দমানো যাবে না। কারণ আমরা বশ্যতা স্বীকার করতে জানি না।”
এখানেই শেষ নয়, তিনি বলেন, “এভাবে ইডি দিয়ে ডেকে পাঠিয়ে ধূপগুড়ির জ্বালা মিটবে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে।”
একইসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকে নাম আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “যারা মেরুদণ্ড বেচে অন্য দলে চলে যান, তাদের কখনও ডাকা হয় না। তাদের নিয়ে হাইকোর্টও কোনও কথা বলে না। বিজেপিতে গেলেই ওয়াশিং মেশিন। সব ধোওয়া তুলসি পাতা। অথচ টেলিভিশনের সামনে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে। তবু তাঁকে কোনও তদন্তকারী সংস্থা ডাকে না।”
উল্লেখ্য, এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে বহুদিন বাদে শোনা গেল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম। তিনি বলেন, “গত বছর ২৩ জুলাই গ্রেফতার হন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এতদিন জেলে আছেন। এত মাস পরেও ট্রায়াল শুরু হয়নি। সারদাকাণ্ডের পর ১০ বছর কেটে গিয়েছে। সুদীপ্ত অধিকারী জেলে এখনও কাউকে ধরা গেল না। কটা লোক টাকা ফেরত পেয়েছেন? তদন্ত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত।”
অতীতের পুনরাবৃত্তি
আজকের এই ঘটনা অতীতের পুনরাবৃত্তি। ২০২৩ সালের ২৭ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে টানা ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। সেদিনও তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে ধারালো আক্রমণ শানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “বিজেপি আমাকে দমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি দমে যাব না।”
২০২২ সালের ২৩ জুলাই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সারদাকাণ্ডে গ্রেফতার করেছিল ইডি। তিনি এখনও জেলে আছেন। তার ট্রায়াল শুরু হয়নি। সারদাকাণ্ডের পর ১০ বছর কেটে গেলেও এখনও কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।