OMG! ৪,১৮৬ ফুট গভীর গুহাতে ছিলেন আটকে, ৯ দিন পর হলেন জীবিত উদ্ধার

তুরস্কের মরকা কেভের গভীরতা কত তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন মার্কিন অভিযাত্রী মার্ক ডিকি। দক্ষিণ তুরস্কের তুরাস পর্বতমালার পাতালরাজ্যে শাখা-প্রশাখা মেলেছে দুর্গম এই গুহা। সেখানেই আটকে পড়ার ৯ দিন পর দুঃসাহসিক এক অভিযানে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয় ৪০ বছর বয়সি মার্ক ডিকিকে।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, মাটির ১ হাজার ২৭৬ মিটার (৪ হাজার ১৮৬ ফুট) গভীরে পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়েন মার্ক ডিকি। গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি আটকা পড়েছিলেন সরু একটি সুড়ঙ্গে। আর অসুস্থ হয়ে সেখানে আটকা পড়ার ৯ দিন পর গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে উদ্ধারকারীদের আন্তর্জাতিক একটি দল তাকে সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।

একের পর এক প্রচেষ্ট ব্যর্থ হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত মার্ক ডিকিকে গুহা থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়।

টার্কিশ কেভ ফেডারেশন বলেছে, অভিযানে গুহা থেকে উদ্ধারের পর্যায়টি সফলতার সঙ্গে শেষ হয়।

মরকা কেভ তুরস্কের গুহাগুলোর মধ্যে গভীরতার দিক থেকে তৃতীয়। এটি মাটির নিচে ১.৩ কিলোমিটার (.৮ মাইল) পর্যন্ত গেছে। ডিকি ১ হাজার ২৭৬ মিটার গভীরতায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। উদ্ধারকাজের আয়োজকদের মতে, এটি ছিল এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় এবং জটিল ভূগর্ভস্থ উদ্ধার অভিযানগুলোর একটি।

উদ্ধারকারী, সহযাত্রী অনুসন্ধানকারী এবং চিকিৎসকদের ২০০ জনের একটি আন্তর্জাতিক দল এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। ডিকিকে প্রথমে রক্ত দেওয়ার পর সতর্কতার সঙ্গে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়। তারা প্রথমে তাকে একটি স্ট্রেচারে বেঁধে দেন। বিশেষ করে সরু পথ দিয়ে যাওয়ার সময় কখনো কখনো স্ট্রেচারটিকে দড়ির সাহায্যে খাঁড়াভাবে তুলতে হয়েছে।

যে গুহাটিতে ডিকি আটকা পড়েন, সেটিতে বেশ কিছু খাঁড়া কূপ বা ফাঁকা স্থানের মতো আছে। তেমনি আছে অনেক গভীর গর্ত ও সরু সুড়ঙ্গ। এই গুহায় অভিযানে যাওয়া হাঙ্গেরির আলোকচিত্রী অ্যাগনেস বেরেন্তেস এ তথ্য জানান বলে নিশ্চিত করেছে সিএনএন। ভেতরের তাপমাত্রাও বেশ কম। বেরেন্তেসের অনুমান, সেটা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

টার্কিশ কেভিং ফেডারেশন সোমবার দিবাগত রাতে (তুরস্কের স্থানীয় সময় ১২টা ৩৭ মিনিট) ডিকিকে সফলতার সঙ্গে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

এতে যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছে টার্কিশ কেভিং ফেডারেশন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে ডিকির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। সাধারণভাবে বলা যায়, ডিকির স্বাস্থ্য ভালো আছে। তাকে তরল খাবার খাওয়ানো হচ্ছে।

তুরস্কের জরুরি প্রতিক্রিয়া সেবার স্থানীয় শাখার প্রধান সেঙ্ক ইলদিজ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তার শরীরে রক্তের প্লাজমা এবং সিরাম দিয়ে পাকস্থলীর রক্তক্ষরণের সমস্যা সমাধান করেছি।

এদিকে এক ভিডিও বার্তায় ডিকি সহায়তার জন্য তুরস্কের সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পেতে তুরস্ক সরকার দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। আমার মতে, এটাই আমার জীবন বাঁচিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *