ED-র দফতরে নুসরত জাহান, অভিনেত্রী সাংসদের জন্য তৈরি করা হয়েছে লম্বা প্রশ্নমালা !

রাজারহাট-নিউটাউনে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে ইডির তলব পেয়েছেন বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ ও অভিনেত্রী নুসরত জাহান। সোমবার দুপুরে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হয়েছিলেন তিনি। দুজন ইডি আধিকারিক তাকে চার ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থার ডিরেক্টর পদে থাকাকালীন কী ভূমিকা ছিল নুসরতের। এছাড়া যে ২৩ কোটি টাকা প্রতারণা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সেই টাকা কোনওভাবে তাঁর অ্যাকাউন্টে এসেছিল কিনা তা জানতে নথি খুঁটিয়ে দেখবে ইডি। সংস্থার বোর্ড ডিরেক্টর হয়েও কেন সেই সংস্থা থেকেই লোন নিলেন সাংসদ অভিনেত্রী তাও রয়েছে প্রশ্নমালায়।
প্রসঙ্গত, মেসার্স সেভেন সেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড নামক কোম্পানির বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট করে দেওয়ার নামে ৮০০-এর বেশি বৃদ্ধের থেকে ২৩ কোটিরও বেশি টাকা তোলে। ২০১৪ সালে টাকা তোলা হলে আজও ফ্ল্যাট না পেয়ে অভিযোগ জানান ওই গ্রাহকেরা। ২০১৪ সালে ওই সংস্থার ডিরেক্টর পদেই ছিলেন নুসরত জাহান। ইডিতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা।
তিনি দাবি করেন, ‘দফায় দফায় কোম্পানি থেকে টাকা তুলেছেন নুসরত। ডিরেক্টর থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে দাবি করছেন ওই ২৩-২৪ কোটি টাকার কথা তিনি জানেন না! জনপ্রতিনিধি হিসেবেও উনি দায় এড়াতে পারেন না। এই প্রবীণ অসহায় মানুষেরা কবে টাকা ফেরত পাবে তা জানাতে হবে।’
অন্যদিকে, সোমবার এই ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলাতেই আদালতে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন নুসরত জাহান। ২০১২ সাল থেকে সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর নুসরত ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৭ সালে তিনি এই সংস্থার ডিরেক্টর পদ থেকে পদ ত্যাগ করেন। এই মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ ও অভিনেত্রী। সেই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এদিন নির্দেশ দিয়েছে, এখনই হাজিরা দিতে হবে না নুসরতকে।