BTS-ব্যান্ডে যোগ দেয়ার আশায়! গ্রামের স্কুল থেকে পালিয়ে ধরা পড়ল ৩ স্কুলছাত্রী

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার কাছের একটি অখ্যাত গ্রামে তিন কিশোরীর এমন দুঃসাহসী পরিকল্পনা যে শুনে চমকে যাবেন। কে-পপের মোহিনী শক্তির কাছে হার মেনে, বিটিএস ব্যান্ডে ব্যাকগ্রাউন্ড ডান্সার হিসেবে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সোলে পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

জানা গেছে, তিন কিশোরীই ক্লাস নাইন এবং ইলেভেনে পড়ে। তারা ইউটিউবে বিটিএস-এর গানের ভিডিও দেখে মুগ্ধ হয়ে পড়ে। বিটিএস-এর সদস্যদের প্রতি তাদের এতই ভালোবাসা জন্মায় যে তারা তাদের মতোই হতে চায়।

তিন কিশোরী প্রথমে স্কুল কেটে মুর্শিদাবাদ থেকে ট্রেন ধরে শিয়ালদহে আসে। সেখান থেকে তারা সল্টলেকে আশ্রয় নেয়। তারপর মুম্বই যাওয়ার উদ্দেশ্যে শালিমার স্টেশনে ট্রেন ধরতে আসে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, মুম্বইতে গিয়ে সোল যাওয়ার প্লেনে উঠে সোজা দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি।

তবে নিখোঁজ হওয়ার পরেই তিনজনের পরিবার পুলিশে খবর দেয়। শেষ পর্যন্ত মোবাইল ট্র্যাক করে শালিমার স্টেশনেই তাদের পাকড়াও করে পুলিশ।

এই ঘটনাটি কে-পপের জনপ্রিয়তার নতুন মাত্রা চিহ্নিত করেছে। একসময় কে-পপ শুধুমাত্র শহরাঞ্চলেই জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু এখন প্রত্যন্ত গ্রামেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

মনোবিদদের মতে, কে-পপের জনপ্রিয়তার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আকর্ষণীয় গান, নাচ, পোশাক এবং সাজসজ্জা। এছাড়াও, কে-পপ ব্যান্ডের সদস্যরা তাদের ভক্তদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখে, যা তাদের আরও বেশি জনপ্রিয় করে তোলে।

তবে, কে-পপের এই জনপ্রিয়তা কতটা স্বাস্থ্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে মনে করেন, কে-পপের অতিরিক্ত ভক্তি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *