দিল্লিতে মমতা-কেজরিওয়াল বৈঠক, আসন সমঝোতায় হতে পারে বিশেষ সমীকরণ?

জি-২০ সম্মেলন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আয়োজিত বিশেষ গালা ডিনারে অংশ নিতে শুক্রবার দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নৈশভোজে যোগ দেওয়ার আগে দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবনেই হতে পারে এই বৈঠক।
গত ৩১ অগাস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত তৃতীয় বৈঠকে শরিক দলগুলির নেতারা দ্রুত আসন সমঝোতা মিটিয়ে ফেলার শপথ নিয়েছিলেন। কিন্তু, বাস্তব চিত্র ঠিক কেমন, তা নিয়ে নানা জলঘোলা চলছে।
এই পরিস্থিতিতে মমতা-কেজরি বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই বৈঠকে আসন সমঝোতা নিয়েই আলোচনা সারতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
উত্তরপ্রদেশের ঘোসি আসনে সমাজবাদী পার্টিকে সমর্থন জানিয়েছিল কংগ্রেস। এই কেন্দ্রের প্রার্থীই ছিলেন ইন্ডিয়া জোটের প্রতীক। কিন্তু, BJP-কে হারালেও অন্যরকম সমীকরণ কাজ করেছে পশ্চিমবঙ্গের ধূপগুলি, কেরালার পুথুপল্লী এবং ঝাড়খণ্ডের দুমরি আসনে। কেরালায় বামেরা লড়েছে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। আবার সেই বাম-কংগ্রেসেরই জোট প্রার্থী বাংলার ধূপগুড়ি আসনে লড়েছে ইন্ডিয়া জোটের শরিক তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আবার কেরালাতে আলাদাভাবে প্রার্থী দিয়েছিল আম আদমি পার্টি।
ফলে আগামীদিনে প্রতিটি রাজ্যের ক্ষেত্রে লোকসভার কী সমীকরণ হতে পারে, সেটাই এখন দেখার।
আসন সমঝোতায় কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে?
আম আদমি পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেস, উভয়ই ইন্ডিয়া জোটের শরিক। কিন্তু, একাধিক রাজ্যে একাধিক রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে এই শরিক দলগুলির মধ্যে। সে ক্ষেত্রে লোকসভা ভোটের ক্ষেত্রে আসন সমঝোতা কী পদ্ধতিতে হবে, তা নিয়েই কাটাছেঁড়া চলছে।
আসন সমঝোতায় যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:
রাজ্যভিত্তিক সমীকরণ: একাধিক রাজ্যে একাধিক শরিক দলগুলির মধ্যে শক্তির সমীকরণ আলাদা। সে ক্ষেত্রে কোন দল কোন আসনে লড়বে, তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে।
আঞ্চলিক দলগুলির ভূমিকা: ইন্ডিয়া জোটে কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়াও আরও কয়েকটি আঞ্চলিক দল রয়েছে। এই দলগুলির ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে।
রাজনৈতিক বাস্তবতা: প্রতিটি দলের নিজস্ব রাজনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আসন সমঝোতায় বিভিন্ন দলের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করে আসন সমঝোতায় পৌঁছানো ইন্ডিয়া জোটের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।