১৮ না পেরোতেই নায়িকা হয়েছেন বাংলা সিরিয়ালের এই অভিনেত্রীরা, দেখেনিন একঝলকে

বাংলা টেলিভিশনে প্রতি বছর নতুন নতুন মুখের আবির্ভাব হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সিরিয়ালে যে নতুন নায়িকাদের নেওয়া হচ্ছে তাদের বয়স খুবই কম। এমনকি এদের মধ্যে অনেকের বয়স ১৮ পার হয়নি। স্কুলের গণ্ডি না পেরোতেই কার্যত তারা কেউ বউ, কেউ মা, কেউ আবার শাশুড়ি হয়ে বসেছেন।

এই প্রবণতা বেশ কিছু বছর ধরে চলছে। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের অনেকেই তরুণ। তাদের পছন্দের তালিকায় থাকেন তরুণ অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। দ্বিতীয়ত, কম বয়সী অভিনেত্রীদের অভিনয় করা সহজ। তারা সহজেই বিভিন্ন চরিত্রে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন। তৃতীয়ত, টেলিভিশনের প্রযোজকরা কম বয়সী অভিনেত্রীদেরকে কম পারিশ্রমিক দিতে পারেন।

এই প্রবণতার বেশ কিছু নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। প্রথমত, এটি শিশুদেরকে অপ্রাপ্তবয়স্ক বিবাহ এবং মাতৃত্ব সম্পর্কে ভুল ধারণা দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, এটি সমাজে নারীদের প্রতি বৈষম্যকে প্রশ্রয় দিতে পারে। তৃতীয়ত, এটি তরুণ অভিনেত্রীদের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এই প্রবণতা বন্ধ করার জন্য টেলিভিশনের প্রযোজক, অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং দর্শকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। টেলিভিশনের প্রযোজকদের উচিত কম বয়সী অভিনেত্রীদেরকে প্রাপ্তবয়স্ক চরিত্রে অভিনয় করা থেকে বিরত রাখা। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উচিত তাদের বয়স অনুযায়ী চরিত্রে অভিনয় করা। দর্শকদের উচিত কম বয়সী অভিনেত্রীদেরকে প্রাপ্তবয়স্ক চরিত্রে অভিনয় করতে দেখে উদ্বিগ্ন হওয়া।

বাংলা টেলিভিশনের কিছু কম বয়সী নায়িকা

অনন্যা গুহ (১৮ বছর)
খেয়ালী মন্ডল (২০ বছর)
আরাত্রিকা মাইতি (১৯ বছর)
সৌমিতৃষা কুন্ডু (২২ বছর)
সৌমিলি চক্রবর্তী (১৯ বছর)
দিতিপ্রিয়া রায় (২০ বছর)
অরুনিমা হালদার (২০ বছর)
ইন্দ্রানী পাল (২২ বছর)
তিয়াসা লেপচা (২৩ বছর)
দেবাদৃতা বসু (২১ বছর)
শ্যামৌপ্তি মুদুলি (২২ বছর)
মোহনা মাইতি (১৮ বছর)
স্বস্তিকা ঘোষ (১৯ বছর)
এই তালিকায় উল্লিখিত নায়িকাদের মধ্যে অনেকেই বেশ জনপ্রিয়। তারা তাদের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন। তবে তাদের বয়স এবং অভিনয় করা চরিত্রগুলির দিকে তাকালে উদ্বেগ প্রকাশ করাই স্বাভাবিক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *