কোন শত্রুতায় কারা খুন করতে চায় সালমানকে? অবশেষে মুখ খুললেন অভিনেতা

দিন দশেক আগে পাঞ্জাবের মানসায় ভরদুপুরে ব্যস্ত রাস্তায় গুলি করে মারা হয় সেখানকার জনপ্রিয় গায়ক ও কংগ্রেস নেতা সিধু মুসেওয়ালাকে। বলিউড সুপারস্টার সালমান খান এবং তার বাবা প্রখ্যাত চিত্রনাট্যকার সেলিম খানের অবস্থাও সে রকম হবে বলে সম্প্রতি এক চিঠিতে তাদের হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু কার সঙ্গে শত্রুতা খান পরিবারের? কারা প্রাণ নিতে চায় সালমান ও তার বাবার?

মুম্বাই পুলিশের ধারণা, গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার গ্যাংয়ের সদস্য গোল্ডি ব্রার রয়েছেন এই ঘটনার পেছনে। তবে সালমান পুলিশকে খান জানিয়েছেন, তিনি এদের কাউকেই চেনেন না। খুনের হুমকি পাওয়ার পর সোমবার সালমান ও তার বাবার বয়ান রেকর্ড করে মুম্বাই পুলিশ। সেখানে ভাইজান দাবি করেন, তার সঙ্গে কারও শত্রুতা বা ঝামেলা নেই। এমনকি, তিনি এখনো কোনো হুমকি ফোনও পাননি।

তবু চিন্তার ভাজ মুম্বাই পুলিশের কপালে। রবিবার হুমকি চিঠি পাওয়ার পরই সালমান ও তার পরিবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরকারিভাবে জোরদার করা হয়েছে। কোথা থেকে এলো ওই বেনামি চিঠি, তারও খোঁজ চলছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নিশানায় রয়েছেন সালমান। সিধু মুসেওয়ালা হত্যায়ও বিষ্ণোইয়ের নাম উঠে এসেছে। তারই জেরে চিরুণি তল্লাশি শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ।

রবিবার সকালে হাটতে বেরিয়ে সালমানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের কাছে ওই হুমকি চিঠি পান তার বাবা সেলিম খান। এর পরই মুম্বাইয়ের বাদ্রা থানায় একটি মামলা করা হয়। তৎক্ষণাৎ গ্যালাক্সির চারপাশে পুলিশি প্রহরা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিলীপ ওয়াসলে পাটিল গোটা ঘটনা ও তদন্ত প্রক্রিয়া জানতে চেয়ে এরইমধ্যে সাক্ষাৎ করেছেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিশ্বাস নানগরে পাটিলের সঙ্গে।

এই মামলায় গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে ইতিমধ্যে জেরা করেছে দিল্লি পুলিশ। বর্তমানে তিহার জেলে বন্দি এই কুখ্যাত গ্যাংস্টার। সালমান খানের উদ্দেশে লেখা ওই হুমকি চিঠির সঙ্গে তার বা তার গ্যাংয়ের সদস্যদের কোনো যোগ নেই বলে জেরায় দাবি করেছেন লরেন্স বিষ্ণোই। মুম্বাই পুলিশের একটি দলও খুব শিগগির দিল্লি গিয়ে বিষ্ণোইকে জেরা করবে বলে জানানো হয়েছে।

সালমান ও তার বাবাকে খুনের হুমকির ঘটনায় গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই সন্দেহের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন। কারণ, এর আগে ২০১৮ সালে সালমানকে প্রকাশ্যে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন এই বিষ্ণোই-ই। যদিও এখনো পর্যন্ত বহাল তবিয়তেই আছেন বলিউড সুপারস্টার।

এদিকে, সোমবার পুলিশের কাছে বয়ান দিয়ে খুনের হুমকি মাথায় নিয়েই হায়দ্রাবাদ উড়ে গেছেন সালমান খান। সেখানে তিনি আগামী ছবি ‘কাভি ঈদ কাভি দিওয়ালি’র শুটিং করবেন। টানা ২৫ দিন হায়দ্রাবাদে চলবে শুটিং। এরপর মুম্বাই ফিরে শুরু করবেন ‘টাইগার থ্রি’র বাকি থাকা অংশের কাজ। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, প্রাণনাশের হুমকির কোনো প্রভাবই পড়েনি টাইগার খানের দৈনন্দিন জীবনে।